বিশ্বের ৭০ শতাংশ বাঘ এখন ভারতেই! আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে দেশবাসীকে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর!

আজকের আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসের বিশেষ এই শুভক্ষণে সমগ্র দেশের সমস্ত বন্যপ্রাণী প্রেমী এবং প্রকৃতিবিদদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে দেশবাসীর সামনে এক ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে ঘোষণা করেছেন যে, বর্তমান বিশ্বে বসবাসকারী মোট বাঘের প্রায় ৭০ শতাংশেরই নিরাপদ আবাসস্থল হলো একমাত্র ভারত। সামাজিক মাধ্যম এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে সংরক্ষণ, স্থানীয় জনসমষ্টির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের সুদৃঢ় ভাবনার মাধ্যমে ভারতের রাজকীয় বন্যপ্রাণী তথা বাঘেদের সুরক্ষার প্রতি সরকারের অটুট প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নিজের বার্তায় তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, গ্লোবাল টাইগার ডে-তে সমস্ত বন্যপ্রাণীপ্রেমীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আমরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত গর্বিত যে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ বাঘ আজ আমাদের দেশেই স্বাধীনভাবে বিচরণ করছে। প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে সহাবস্থান করার আমাদের হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি এবং দেশের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সদিচ্ছাই হলো ভারতের এই বর্ণাঢ্য বাঘ সংরক্ষণ প্রচেষ্টার মূল অনুপ্রেরণা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন সংরক্ষণ নীতি, সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং পরিবেশসম্মত স্থিতিশীল উন্নয়নের মাধ্যমে এই মূল্যবান প্রজাতিকে রক্ষা করতে আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অন্যদিকে, শুধু সাধারণ নীতি ঘোষণা বা শুভেচ্ছা জ্ঞাপনই নয়, অন্য একটি পৃথক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বাঘেদের জীবন ও বাসস্থান সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে চলা অকুতোভয় বনকর্মী, নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানী এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদদের ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন যে, আমাদের বনকর্মী, বিজ্ঞানী এবং সংরক্ষণবিদদের অসামান্য প্রচেষ্টা, কায়িক শ্রম ও নিষ্ঠা দেশের বাঘেদের সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ভারত সরকার আগামী দিনেও স্থানীয় সম্প্রদায়কে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সচেষ্ট থাকবে। দেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (MoEF&CC)-এর পক্ষ থেকেও এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে বাঘ সংরক্ষণ করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি। মন্ত্রকের সুচিন্তিত বক্তব্য অনুযায়ী, বাঘের বেঁচে থাকার এই গৌরবোজ্জ্বল গল্পটি আদতে আমাদের চিরসবুজ জঙ্গল, প্রবহমান নদী এবং মানবজাতির সকলের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধিরই গল্প। আজকের এই আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে কীভাবে একটি চমৎকার বন্য প্রজাতিকে বাঁচানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সমগ্র প্রকৃতির বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

এদিকে, বিশ্ব বাঘ দিবসকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বহুগুণ বাড়াতে উড়িষ্যার ঐতিহ্যবাহী পুরীর সমুদ্র সৈকতে একটি অভূতপূর্ব স্যান্ড আর্ট বা বালুশিল্প তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বালি শিল্পী সুদর্শন পট্টনায়েক। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানান যে, গ্লোবাল টাইগার ডে উপলক্ষেই আমরা পুরীর সৈকতে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বিশালাকার বাঘের সুন্দর স্যান্ড আর্ট তৈরি করেছি। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (WWF)-এর সঙ্গে যৌথভাবে আমরা প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে বাঘ সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে এই ধরনের বিশেষ ভাস্কর্য তৈরি করে থাকি, এবছরেও তার কোনো অন্যথা হয়নি। ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়া বাঘেদের প্রাকৃতিক বাসস্থান এবং তার পারিপার্শ্বিক জঙ্গল সুরক্ষিত করার বিষয়ে দেশজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা তৈরি করছে। আমরা প্রত্যেকেই যেমন নিজেদের বাসস্থান বা বাড়ি নিরাপদে রাখি, ঠিক তেমনই বন্য বাঘেদের তাদের নিজস্ব আবাসে সুরক্ষিত রাখাও আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের এই বালুশিল্পে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ এবং তার আদুরে শাবকদের অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যারা নিজেদের প্রাকৃতিক আবাসে পরম আনন্দে রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর নির্দিষ্টভাবে ২৯ জুলাই তারিখেই বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস বা গ্লোবাল টাইগার ডে পালিত হয়ে থাকে। এর প্রধান ও মূল উদ্দেশ্য হলো বিপন্নপ্রায় বাঘেদের প্রাকৃতিক বাসস্থান চিরতরে রক্ষা করার জন্য একটি শক্তিশালী বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বন্য বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।