প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভিন রাজ্যে পাচারের ছক! কেতুগ্রামের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়ল অভিযুক্ত!

পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম-২ ব্লকের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া একটি উদ্বেগজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিন্টু মোল্লা নামের এক স্থানীয় যুবক এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে সুকৌশলে প্রেমের জালে আটকে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নাবালিকা মেয়েকে দেশের ভেতরে বা ভারতের বাইরে কোথাও পাচার করে দেওয়ার একটি গভীর ও অন্ধকার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। তবে স্থানীয় সচেতন যুবক ও হিন্দু সংগঠনের কর্মীদের সময়োপযোগী তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং তারা তৎক্ষণাৎ মেয়েটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে অভিযুক্ত যুবককে পুলিশের হাতে সঁপে দিয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মিন্টু মোল্লা দীর্ঘকাল ধরে সুকৌশলে ওই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিনএজার মেয়েটিকে প্রেমের মিথ্যা প্রলোভনে ফেলে বিশ্বাস অর্জন করে সে। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত কাল বিকেলের দিকে সে ওই নাবালিকাকে নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় যুবকরা দ্রুত একত্রিত হয়ে তাদের পথ আটকে দাঁড়ান। একই সঙ্গে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের কর্মীরাও মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। সকলের সম্মিলিত ও সক্রিয় পদক্ষেপে মেয়েটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর অভিযুক্ত মিন্টু মোল্লাকে আটক করে স্থানীয় কেতুগ্রাম থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী নাবালিকার পরিবার চরম মানসিক আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েটির বাবা গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা কোনো দিন বিন্দুমাত্র কল্পনাও করতে পারিনি যে আমাদের পরিবারের সঙ্গে এমন একটি ভয়ংকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমাদের মেয়ে এখনও অত্যন্ত ছোট এবং পড়াশোনা করছে, তার চোখের সামনে অজস্র উজ্জ্বল স্বপ্ন রয়েছে। কিন্তু এই ধরনের জঘন্য প্রলোভন ও ফাঁদ তার পুরো জীবনটা চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারত। আমাদের স্পষ্ট ধারণা, মেয়েটিকে সুপরিকল্পিতভাবে পাচার করে দেওয়ার বৃহত্তর ছক কষা হয়েছিল।”

স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা ক্ষোভের সুরে জানিয়েছেন যে, কেতুগ্রাম-২ ব্লক এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে সাম্প্রতিক অতীতে এমন বেশ কয়েকটি অনুরূপ উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে চলেছে। এলাকার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ এই ধরনের ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন এবং অনেকে একে ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করছেন যে, সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে কমবয়সী নাবালিকা ও তরুণীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিপথগামী ও ধর্মান্তরিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের এক দায়িত্বশীল নেতার মতে, “আমরা কেবল একটি মেয়েকে উদ্ধার করিনি, বরং এর মাধ্যমে সমগ্র সমাজকে কঠোরভাবে সতর্ক করতে চাই। প্রশাসনের উচিত এই ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা, কারণ আমাদের এলাকার নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।”

এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত আসরে নামে পুলিশ। কেতুগ্রাম থানার একজন দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন যে, গোটা ঘটনার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। নাবালিকার সঠিক বয়স নির্ধারণ, অভিযুক্তের সঙ্গে তার যোগাযোগের যাবতীয় প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য নেপথ্য কারণগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক স্তরে এই ঘটনাকে সরাসরি ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, বরং এটিকে একটি সুনির্দিষ্ট অপহরণ ও নাবালিকা পাচারের গুরুতর মামলা হিসেবেই তদন্তের পরিধিতে রাখা হয়েছে।