চোখে জটিল অস্ত্রোপচার! বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেতে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

চোখের এক জটিল ও পুরনো চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার আইনি অনুমতি চেয়ে এবার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ আইনি নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতের কোনো নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে প্রথমে উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হওয়ার প্রথা থাকলেও, সেই প্রচলিত পথ মাড়াননি তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোজা সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছেন এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আগামী ৩ অগস্ট দেশের শীর্ষ আদালতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইনি মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।
শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া নিজের বিশদ আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো দাবি করেছেন যে, ‘ডিজে’ সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে জারি করা সমস্ত নির্দেশিকা তিনি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিয়মমতো নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনাও তদন্তকারীদের কাছে জমা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তাঁর বিদেশযাত্রার সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের আবেদনে কোনোভাবেই সিলমোহর দেওয়া হচ্ছে না। এর আগে গত ২০ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ তাঁর বিদেশ যাওয়ার আর্জি খারিজ করে নির্দেশ দিয়েছিল যে, এ রাজ্যের কোনো সরকারি হাসপাতালে ওই বিশেষ চিকিৎসা সম্ভব কি না, তা আগে খতিয়ে দেখা দরকার। এমনকি কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের প্রবীণ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের কথাও বলা হয়েছিল। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের আইনজীবী পক্ষের তরফ থেকে জোরালো সওয়াল করে জানানো হয় যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক আইনি মামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে দেশ ছাড়ার অনুমতি প্রদান করলে চলমান তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত একক বেঞ্চ তাঁর আইনি সুরক্ষাকবচ আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করলেও তাঁর বিদেশ যাওয়ার কোনো ছাড়পত্র মঞ্জুর করেনি।
উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, যখন এক ভয়াবহ ও মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ চোখের হাড় ভেঙে গিয়েছিল এবং চোখের ঠিক নিচে অত্যন্ত গুরুতর আঘাত লেগেছিল। সেই সময় থেকেই তিনি এই দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যায় ভুগে চলেছেন। অতীতেও এই একই শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁকে দুবাই, সিঙ্গাপুর এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নামী হাসপাতালে গিয়ে চোখের জটিল অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর চোখের এই পুরনো সমস্যা ফের মাথাচাড়া দেওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়েছে। এখন দেশবাসীর নজর রয়েছে আগামী ৩ অগস্টের সুপ্রিম কোর্টের সেই গুরুত্বপূর্ণ শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে তৃণমূল সাংসদের বিদেশ যাওয়ার ভাগ্য।