বিশ্বকে চমকে দিল ভারত! ৭.৭ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিতে বিশ্বের দ্রুততম অর্থনীতির খেতাব জয়

বিশ্বজুড়ে যখন অধিকাংশ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ অর্থনৈতিক মন্দা এবং অনিশ্চয়তার কবলে, তখন ভারত যেন এক ভিন্ন কক্ষপথে। যাবতীয় প্রতিকূলতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ভারতের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির মঞ্চে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক জুনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ব্যাপক শিল্প উৎপাদন এবং অভূতপূর্ব বিনিয়োগের হাত ধরে ভারত এক অসামান্য অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখানেই শেষ নয়, বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও গতিশীল হয়ে ৭.৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতীয় অর্থনীতির ভিত কতটা মজবুত।
ম্যানুফ্যাকচারিং ও শিল্প খাতের অভাবনীয় বিস্তার এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। জুনে ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই (PMI) সূচক দাঁড়িয়েছে ৫৪.২-এ। টানা ৩৭ মাস ধরে এই খাতের ধারাবাহিক বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, বিশ্ব বাজারে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি মে মাসে পরিষেবা খাতের পিএমআই সূচক ৫৯.৮-এ পৌঁছেছে। শিল্প উৎপাদন সূচকের (IIP) ক্ষেত্রেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। মে মাসে সামগ্রিক শিল্প উৎপাদন ৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৯.৯ শতাংশ এবং মোটরগাড়ি শিল্পে ১৪.৫ শতাংশের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি হয়েছে, যা শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে মোদী সরকারের আগ্রাসী বিনিয়োগ ভারতের অর্থনৈতিক ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই মাসে (এপ্রিল-মে) পরিকাঠামো খাতে সরকারের মূলধনী ব্যয় গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়ে ২.৫১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে ভারতীয় রেলওয়ে একাই ৮৪,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত রেলের সুরক্ষা, সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
একইসঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুত্থান আশার আলো দেখাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় গাড়ির বিক্রি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের এই বাড়বাড়ন্ত কর আদায়ের পরিসংখ্যানেও প্রতিফলিত হয়েছে। জুনে জিএসটি সংগ্রহ ১৩.৯ শতাংশ বেড়ে ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা সরকারের রাজকোষকে সমৃদ্ধ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল থাকায় রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণেও সরকার অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এই দিকেই নির্দেশ করে যে, ভারত বর্তমানে এক বড়সড় অর্থনৈতিক উল্লম্ফনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।