তৃণমূলের দখলদারি নিয়ে চূড়ান্ত লড়াই! প্রতীক কার? মমতা ও ঋতব্রতকে তলব নির্বাচন কমিশনের

রাজ্যের রাজনীতিতে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—তৃণমূল কংগ্রেস আসলে কার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের? দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে চলা তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এবার গড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, উভয় পক্ষকেই নোটিশ পাঠাল ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

মূলত, নির্বাচন কমিশনের কাছে উভয় পক্ষকেই প্রমাণ করতে হবে যে, কেন তাদের শিবিরকে ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে মান্যতা দেওয়া হবে। কমিশন তাদের নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ৬ জুলাই, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই তাদের দাবির সমর্থনে সমস্ত নথিপত্র ও তথ্য জমা দিতে হবে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে দলের ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি’-র বৈধতাকে কেন্দ্র করে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই পুরনো কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, এরপর নতুন কোনো অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়নি। ফলে বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, মমতা শিবিরের দাবি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই নতুন কমিটির তালিকা নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে, তাই বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কমিশন এখন এই আইনি জটিলতার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে চাইছে।

তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্বে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলের ‘অথোরাইজড সিগনেটরি’ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারী। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলকে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনীত করতে হয়, যিনি কমিশনের সঙ্গে দলের হয়ে যাবতীয় যোগাযোগ করবেন এবং তাঁর স্বাক্ষরই আইনিভাবে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। কালীঘাট সূত্রে খবর, এতদিন সাংগঠনিক বিষয়ে সই করতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রার্থীদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে সই করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এখন সেই অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে চলছে তুমুল চাপানউতোর।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিধানসভার অন্দরে এখন তৃণমূলের বিধায়করাই দুই শিবিরে বিভক্ত। এই টানাপোড়েনের মাঝেই কমিশনকে দেওয়া এই নোটিশ তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখন দেখার সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে কমিশন কোন পক্ষকে কতটা মান্যতা দেয়, আর তার ওপরই নির্ভর করছে জোড়াফুল শিবিরের ভবিষ্যতের গতিপথ।