বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে স্কুটিতে খড়গপুরের এএসপি! রথযাত্রার আগে রাস্তায় কেন হঠাৎ এই ছবি?

রথযাত্রার প্রাক্কালে জননিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে অভিনব নজির স্থাপন করলেন খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশারা বানো। সাধারণত উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কনভয় বা বিলাসবহুল গাড়িতে চলাচলের চিত্রই সাধারণ মানুষের চোখে অভ্যস্ত। কিন্তু রথযাত্রার ভিড় সামলাতে এবং রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে আজ প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে বেলদার রাস্তায় দেখা গেল খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে।

এদিন সকাল থেকেই বেলদার ব্যস্ত রাজপথে পুলিশি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। রথযাত্রার রুট এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ প্রশাসন। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশারা বানো তার দামী গাড়িটি সরিয়ে রেখে হেলমেট মাথায় নিজেই স্কুটিতে সওয়ার হন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা কেমন, কোনো জায়গায় যানজটের আশঙ্কা আছে কি না—সবটাই তিনি অত্যন্ত খুঁটিয়ে দেখেন।

পুলিশি পোশাকের বাইরেও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি নিজেও যে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন, তা এদিনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো। স্কুটি চালিয়ে ঘোরার সময় তিনি সাধারণ পথচারী ও গাড়িচালকদের মাঝে ‘সেফ ড্রাইভ, সেফ লাইফ’ সচেতনতার বার্তাও পৌঁছে দেন। হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব এবং ট্রাফিক নিয়ম মানার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি স্থানীয় মানুষকে সচেতন করেন।

একজন পদস্থ পুলিশ আধিকারিককে এভাবে সাধারণের মধ্যে মিশে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখে অবাক হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। অনেকে বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে। রথযাত্রার দিন এমনিতেই প্রচুর মানুষের সমাগম হয়, সেই জনস্রোত সামাল দেওয়ার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বুশারা বানোর এই পরিদর্শনেই ফুটে উঠেছে।

পুলিশ সুপার বুশারা বানোর এই সহজ-সরল অথচ বলিষ্ঠ পদক্ষেপ বেলদাবাসীর মন জয় করেছে। তাঁর এই সক্রিয়তায় রথযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সব মিলিয়ে, খড়গপুর পুলিশের এই মানবিক ও কর্তব্যনিষ্ঠ চেহারা আজ আলোচনার কেন্দ্রে।