সোনার বাজারে বড় ধস! রেকর্ড উচ্চতা থেকে ২০ শতাংশ পতন, বিনিয়োগকারীদের জন্য কি এটিই শেষ সুযোগ?

কয়েক মাস আগেও যখন সোনার দাম নিত্যনতুন রেকর্ড গড়ছিল, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি ও উৎসাহ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৫৯৪.৮২ ডলারের ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিল। তবে সেই সোনালি দিনের পর থেকেই বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। মুনাফা বুকিংয়ের হিড়িক, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং সুদের হার নিয়ে বাজারের পরিবর্তিত প্রত্যাশা—এই তিনটি প্রধান কারণে সোনার দামে প্রায় ২০ শতাংশ ধস নেমেছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই দাম নেমে এসেছে প্রতি আউন্স ৪,১০০ ডলারের কাছাকাছি।

এখন বিনিয়োগকারীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সোনার কি শেষ দেখে ফেললাম, নাকি এটি মাত্র একটি সাময়িক বিরতি? বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ সংস্থাগুলির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক মিশ্র চিত্র। অধিকাংশ সংস্থাই মনে করছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়টা সোনার দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে ২০২৭ সাল নিয়ে তারা এখনও যথেষ্ট আশাবাদী। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তনই সোনাকে আবারও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সোনার বর্তমান দরের ওপর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে। সেপ্টেম্বরে ফেডের পরবর্তী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বাজার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ফেড যদি আবারও সুদের হার বৃদ্ধির পথে হাঁটে, তবে ডলার এবং বন্ডের চাহিদা বাড়বে, যার ফলে সোনার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। জুলাই মাসে বাজারে প্রায় ৬২ শতাংশ সম্ভাবনা ছিল যে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের সোনার প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বখ্যাত ব্যাঙ্ক HSBC তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। তারা ২০২৬ এবং ২০২৭ উভয় বছরের জন্যই সোনার দামের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে এনেছে। ২০২৬ সালের জন্য সোনার গড় দাম প্রতি আউন্স ৪,৮৬৪ ডলার থেকে কমিয়ে ৪,৫৬০ ডলার এবং ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ৫,০০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪,৯২৫ ডলারে নির্ধারণ করেছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে দাম ৩,৮০০ থেকে ৪,৭০০ ডলার প্রতি আউন্সের মধ্যেই ওঠানামা করবে। বছরের শেষে অবশ্য দাম কিছুটা বেড়ে ৪,৭৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ব্যাঙ্কটি আশা করছে।

তবে বিপরীত সুর শোনা যাচ্ছে JP Morgan-এর গলায়। তারা এখনও সোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি মার্কিন সুদের হারের চাপ কমে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা টিকে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রতি আউন্স ৬,০০০ ডলার এবং ২০২৭ সালে ৬,৩০০ ডলারের চূড়ায় পৌঁছতে পারে। যদিও এই পূর্বাভাস সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান সময়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।