বিরল রোগের চিকিৎসায় হাইকোর্টের কড়া পদক্ষেপ, রাজ্যের অবহেলায় চরম ক্ষোভ, তারপরই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের তীব্র ভর্ৎসনার পর অবশেষে বিরল রোগ ‘মাসকুলার ডিসট্রফি’-র চিকিৎসায় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এই রোগের পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় স্লিপ স্টাডি ও বাইপ্যাপ মেশিন না বসানোয় গত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম রাজ্য সরকারের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
শুক্রবার এই মামলায় রাজ্যের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে জানানো হয়, এসএসকেএম হাসপাতালে মাসকিউলার ডিসট্রফি আক্রান্ত রোগীদের জন্য ঘুম বিশ্লেষণকারী মেশিনটি কেনা হয়েছে, যার জন্য খরচ হয়েছে ৩৫ লক্ষ টাকা।
সন্তান ধারণের আগে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি
এদিন শুনানিতে মামলাকারীরা জানান, মাসকুলার ডিসট্রফিতে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত মায়ের জিন থেকেই এই রোগ পেয়ে থাকে। তাই সন্তান ধারণের আগে ‘ডুচেন মাসকুলার ডিসট্রফি’ (DMD) পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এই বিষয়ে রাজ্যের মতামত জানতে চেয়েছেন আদালত।
মামলাকারীদের যুক্তি, থ্যালাসেমিয়ার মতো এই রোগের ক্ষেত্রেও বিয়ের আগে বা গর্ভধারণের আগে পরীক্ষা করা জরুরি। মায়ের জিনে এই রোগের লক্ষণ থাকলে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা যাবে।
আদালতের কঠোর নির্দেশ
মামলাকারীদের বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে নির্দেশ দেয়, গর্ভধারণের আগে মাসকুলার ডিসট্রফি শনাক্তকরণ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে তাদের মতামত কী, তা আগামী সোমবারের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে।
এর আগের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্য এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলে আদালত স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদালত অবমাননার পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
মাসকুলার ডিসট্রফি কী?
এটি একটি জিনগত রোগ, যা পেশিগুলিকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে রোগীর পক্ষে দৈনন্দিন সাধারণ কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। একসময় রোগীর হাঁটার ক্ষমতাও চলে যায়। এই রোগের এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি। বিভিন্ন থেরাপির মাধ্যমে কেবল রোগের গতি কমানোর চেষ্টা করা হয়।