বছরের শ্রেষ্ঠ একাদশী! মাত্র ১ দিন নির্জলা ব্রত পালনেই মিলবে ২৪টি একাদশীর পুণ্যফল, জেনে নিন সঠিক নিয়ম

হিন্দু ধর্মে একাদশী তিথি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবে তার মধ্যে ‘নির্জলা একাদশী’কে বলা হয় বছরের শ্রেষ্ঠ বা মোক্ষদা একাদশী। শাস্ত্র অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সারা বছরের সমস্ত একাদশীর পুণ্যফল একবারে পেতে চান, তাঁর জন্য নির্জলা একাদশী পালনই যথেষ্ট। এই বছর ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার পালিত হবে এই মহাপুণ্যময় তিথি। কঠোর নিয়মের মাধ্যমে পালনীয় এই উপবাসের মাহাত্ম্য অপরিসীম। তবে যদি আপনি প্রথমবার এই ব্রত রাখার কথা ভেবে থাকেন, তবে শাস্ত্র নির্দেশিত কিছু জরুরি নিয়মাবলী সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা আবশ্যক।

প্রথমেই মনে রাখবেন, যেকোনো ব্রত শুরু করার আগে ‘সংকল্প’ গ্রহণ করা অপরিহার্য। নির্জলা একাদশীর দিন সকালে প্রাতঃকৃত্য ও স্নান সেরে হাতে জল, চাল এবং পুষ্প নিয়ে ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে ব্রত পালনের সংকল্প নিন। যদি বিশেষ কোনো মনস্কামনা থাকে, তবে সেটিও উচ্চারণ করুন। নির্জলা একাদশীর প্রধান নিয়ম হলো জলত্যাগ। এই ব্রতে সারাদিন এক ফোঁটা জলও পান করা নিষেধ। তবে অসুস্থ ব্যক্তি বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত; তাঁরা প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জল পান করতে পারেন।

ব্রত চলাকালীন মানসিক পবিত্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দিনটিতে কোনো নেতিবাচক চিন্তা, রাগ, ঘৃণা বা মিথ্যা কথা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখুন। মনে মনে ভগবান বিষ্ণুর নাম জপ করলে এবং ভক্তিভাব বজায় রাখলে ব্রতের ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় মানুষ উপবাস থাকলেও মনে মনে খাবারের চিন্তা করেন, যা শাস্ত্র মতে কাম্য নয়। খাবারের প্রতি লোভ সংবরণ করাই ব্রতের আসল পরীক্ষা।

এই দিনের গুরুত্বের অন্যতম দিক হলো দান-ধ্যান। নির্জলা একাদশীতে জলভরা কলসি, ছাতা, বস্ত্র, শস্য বা ফল দান করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ বলে বিবেচিত হয়। অভাবী বা দুঃস্থ মানুষকে সাধ্যমতো সাহায্য করলে ভগবান বিষ্ণু প্রসন্ন হন এবং ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। মনে রাখা প্রয়োজন, শাস্ত্র মতে এই ব্রত দান ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দানকর্ম করার চেষ্টা করুন।

পরিশেষে, নির্জলা একাদশী কেবল একটি উপবাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। যদি নিষ্ঠার সাথে এই নিয়মগুলো মেনে চলেন, তবে বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান বিষ্ণুর অপার কৃপায় আপনার সারা বছরের পুণ্য অর্জন সফল হবে। তাই আসন্ন বৃহস্পতিবার ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করে নিজের জীবনকে কল্যাণময় করে তুলুন।