বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর থেকেই শুরু হয় নতুন এক জীবনের পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো হানিমুন। ভারতে নবদম্পতিদের পছন্দের তালিকার কথা বললে প্রথমেই যে জায়গাটির নাম মাথায় আসে, তা হলো গোয়া। নীল জলরাশি, বালুকাময় সমুদ্রসৈকত আর পর্তুগিজ স্থাপত্যের মিশেলে গোয়া যেন রোমান্টিকতার এক আদর্শ গন্তব্য। কিন্তু কেন বারবার পর্যটকরা হানিমুনের জন্য গোয়াকেই বেছে নেন? এর পেছনে রয়েছে এমন ৭টি কারণ যা আপনার সফরকে করে তুলবে চিরস্মরণীয়।
১. রোমান্টিক সমুদ্রসৈকত ও সূর্যাস্ত গোয়ার উত্তর ও দক্ষিণ—দুই অংশেই ছড়িয়ে আছে অসংখ্য শান্ত সৈকত। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে দক্ষিণ গোয়ার পালোলিম বা আগোন্ডা বিচে জীবনসঙ্গীর হাত ধরে সূর্যাস্ত দেখা এক অন্যরকম অনুভূতি। আরব সাগরের তীরে এই একান্ত মুহূর্তগুলো হানিমুনকে আরও রঙিন করে তোলে।
২. পর্তুগিজ স্থাপত্য ও সংস্কৃতির স্বাদ গোয়ার অলিগলিতে এখনও পর্তুগিজ স্থাপত্যের ছোঁয়া লেগে আছে। ওল্ড গোয়ার প্রাচীন গির্জা থেকে শুরু করে রঙিন ছোট ছোট বাড়ি—সবই যেন রূপকথার মতো। নবদম্পতিদের জন্য ফোটোশুটের এর চেয়ে ভালো ব্যাকড্রপ আর কী হতে পারে?
৩. বিলাসবহুল রিসোর্ট ও প্রাইভেসি বাজেট যেমনই হোক, গোয়া কাউকেই নিরাশ করে না। এখানে সমুদ্রের একদম কাছে ছোট ছোট কটেজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পুলসহ ফাইভ স্টার রিসোর্ট রয়েছে, যা দম্পতিদের গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই তৈরি।
৪. অ্যাডভেঞ্চার ও জলক্রীড়া যাঁরা একটু রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য গোয়া সেরা জায়গা। প্যারাগ্লাইডিং, স্কুবা ডাইভিং কিংবা জেট স্কিইংয়ের মতো জলক্রীড়া যুগলদের মধ্যে টিম স্পিরিট ও আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।
৫. নাইটলাইফ ও ক্যান্ডেল লাইট ডিনার গোয়ার নাইটলাইফ বিশ্ববিখ্যাত। তিতো’স লেন-এ পার্টি করা হোক বা সমুদ্রের তীরে মৃদু আলোয় ক্যান্ডেল লাইট ডিনার—রোমান্টিকতার সব রসদ এখানে মজুদ। সাগরের ঢেউয়ের গর্জন আর মনমাতানো মিউজিক আপনার রাতকে মায়াবী করে তুলবে।
৬. জিভে জল আনা সামুদ্রিক খাবার ভোজনরসিক দম্পতিদের জন্য গোয়া এক স্বর্গ। এখানকার বিশেষ মশলায় তৈরি ‘ফিশ কারি’ বা ‘চিংড়ির রকমারি পদ’ আপনার স্বাদকুঁড়িকে তৃপ্ত করবেই। সি-ফুড ছাড়াও এখানকার ফেনি ও লোকাল কুইজিন একবার ট্রাই করা অবশ্যই উচিত।
৭. সহজ যাতায়াত ও শপিং ভারতের যে কোনো বড় শহর থেকে গোয়া পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ। এছাড়া হানিমুনের স্মৃতি হিসেবে কেনাকাটার জন্য এখানকার লোকাল মার্কেটগুলো চমৎকার। সস্তায় ঘর সাজানোর জিনিস থেকে শুরু করে ট্রেন্ডি পোশাক—সবই পাওয়া যায় সাশ্রয়ী মূল্যে।
সব মিলিয়ে, পাহাড়ের চেয়ে যদি সমুদ্র আপনাকে বেশি টানে, তবে হানিমুনের গন্তব্য হিসেবে চোখ বন্ধ করে বেছে নিতে পারেন গোয়াকে। জীবনসঙ্গীর সাথে কাটানো এই কয়েকটি দিন আপনার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে সারাজীবন।





