নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই ফের রক্ত ঝরল বাংলায়। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর। জয়ের আনন্দে আবির মেখে বাড়ি ফেরার পথে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে উদয়নারায়ণপুরের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
মৃত বিজেপি কর্মীর নাম যাদব বর (৪৮)। তিনি ওই এলাকার ১৪৮ নম্বর বুথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের দাবি, সোমবার রাতে রাজ্যে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের খবর আসার পর দলের কর্মীদের সঙ্গে বিজয় উৎসবে মেতেছিলেন যাদব। রাত ১১টা নাগাদ যখন তিনি বাড়ি ফিরছিলেন, তখন রাস্তায় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। অভিযোগ, তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় এবং বেধড়ক মারধর করা হয়।
পরিবার ও বিজেপির দাবি: যাদবের পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। পরিবারের এক সদস্য কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ও শুধু বিজেপি করত বলেই ওকে এভাবে মরতে হলো। আবির মেখেই বাড়ি ফিরছিল, কিন্তু ওরা ফিরতে দিল না।” বিজেপির পক্ষ থেকেও এই ঘটনায় সরাসরি শাসকদলকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ব্যক্তিগত বিবাদ বলে দাবি করেছে।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি: রক্তাক্ত অবস্থায় যাদব বরকে উদ্ধার করে উদয়নারায়ণপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মঙ্গলবার সকালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিজয় মিছিল বা উদ্যাপনের সময় যাতে আর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসন। উদয়নারায়ণপুরের এই ঘটনা কি কেবল রাজনৈতিক শত্রুতা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





