জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী মহাজোটকে আরও মজবুত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে বিজেপির আধিপত্য খর্ব করতে এবং আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে তিনি ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকে শক্তিশালী করার প্রকাশ্য ডাক দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি বাংলায় ফের একজোট হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামবে বিরোধীরা?
দীর্ঘদিন ধরেই জোটের অভ্যন্তরে আসন ভাগাভাগি এবং আঞ্চলিক প্রাধান্য নিয়ে জটিলতা চলছিল। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বার্তা সেই বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে ব্যক্তিগত মতভেদ দূরে সরিয়ে রেখে ঐক্যবদ্ধ লড়াই এখন সময়ের দাবি।
তৃণমূলের নয়া রণকৌশল: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনী ধাক্কা সামলে উঠতে জোটের সংহতি বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করছেন, কেবল আঞ্চলিক শক্তির ওপর ভরসা না করে জাতীয় স্তরে বৃহত্তর মঞ্চের মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাতের যে অভিযোগ বারবার উঠছে, সেটিকে হাতিয়ার করেই জোটের সংহতি ফেরাতে চাইছেন তিনি।
বিরোধী শিবিরের অবস্থান: মমতার এই আহ্বানের পর বাম এবং কংগ্রেস শিবিরের প্রতিক্রিয়া এখনও মিশ্র। তবে জোটের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়াও মিলছে। জোটকে শক্তিশালী করার এই ডাক যে দিল্লিতে বিরোধী শক্তির পালে নতুন করে হাওয়া দিচ্ছে, তা মেনে নিচ্ছেন অনেকেই।
বিজেপি অবশ্য এই জোট প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। গেরুয়া শিবিরের মতে, আদর্শহীন এই জোট কেবল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে জোটের সলতে পাকাতে শুরু করেছেন, তাতে আসন্ন সময়ে জাতীয় রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতির এই দড়াবাজিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।





