বিয়ের আনন্দের মাঝে যমুনার মরণঝাঁপ! আনন্দের ভোজই কি কাল হল? একই বাড়ি থেকে ৩ কফিন

বিয়ের সানাইয়ের রেশ তখনও কাটেনি। কনের বিদায়বেলায় বাড়ির আত্মীয়স্বজনদের চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ বদলে গেল বুকফাটা হাহাকারে। উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার কুরারা থানা এলাকার কুতুবপুর গ্রাম সাক্ষী থাকল এক মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনার। যমুনা নদীর মাঝপথে অতিরিক্ত ফলের ভারে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে গেল নৌকা। সলিল সমাধি হল একই পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনের।

ঘটনার সূত্রপাত কুতুবপুর গ্রামের শ্রীপালের মেয়ে অঞ্জলির বিয়েকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার ধুমধাম করে বিয়ে শেষ হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ছিল বিদায় অনুষ্ঠান। কনেকে বিদায় জানানোর পর বিষ্ণু নামে এক যুবক তাঁর স্ত্রী ব্রজরানী এবং আট সন্তানকে নিয়ে যমুনা নদীর ওপারে তাঁদের খামারে গিয়েছিলেন তরমুজ ও বাঙ্গি ভোজের জন্য। খাওয়া-দাওয়া শেষে ফেরার সময় তাঁরা নৌকায় প্রচুর পরিমাণে টাটকা তরমুজ ও বাঙ্গি বোঝাই করেন। আর সেই অতিরিক্ত বোঝাই করা ফলের ভারই কাল হল তাঁদের জন্য। মাঝনদীতে আচমকাই নৌকাটি টাল সামলাতে না পেরে উল্টে যায়।

নৌকাডুবির খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাঝি ধীরু সাঁতরে তীরে উঠে বিষ্ণু ও তাঁর স্ত্রী পারুলকে কোনোক্রমে বাঁচাতে সক্ষম হলেও বাকিরা তলিয়ে যান যমুনার গভীর জলে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ও পুলিশ সুপার (এসপি)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তলব করা হয় এনডিআরএফ (NDRF) ও এসডিআরএফ (SDRF) বাহিনীকে। বুধবার রাতভর সার্চলাইট জ্বালিয়ে তল্লাশি চললেও অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রতিকূলতার মধ্যেই ফের শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান। প্রায় ১১ ঘণ্টার লড়াইয়ের পর নদী থেকে এক মহিলা ও দুই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করেছেন ডুবুরিরা। বর্তমানে ৪ শিশুর সন্ধান এখনও চলছে। যে বাড়ি থেকে কয়েক ঘণ্টা আগে কনের পালকি বিদায় নিয়েছিল, সেই বাড়ি থেকেই আজ একের পর এক মৃতদেহ বের হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা গ্রাম। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও পিএসি মোতায়েন করা হয়েছে।