বিমানে যাতায়াত কি এবার সস্তা? এটিএফ-এর দাম কমল লিটার প্রতি ৫ টাকা!

দেশজুড়ে বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলির জন্য সুখবর। বুধবার কেন্দ্র সরকার অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ (ATF)-এর দাম সংশোধন করেছে। লিটার প্রতি ৫ টাকা কমানো হয়েছে বিমানের এই জ্বালানির দাম। এই পরিবর্তনের ফলে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে প্রতি লিটারে ১১০ টাকা। বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন খরচ কমাতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কেন্দ্র পেট্রল, ডিজেল এবং এটিএফ-এর রফতানি শুল্ক সংশোধনের বিষয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে দেশীয় বাজারে বিক্রিত পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্কে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পেট্রলের ওপর রফতানি শুল্ক ধার্য হয়েছে প্রতি লিটারে ৪ টাকা এবং ডিজেলের ওপর ৮.৫ টাকা। এছাড়া, এটিএফ রফতানির ওপর বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (SAED) ধার্য করা হয়েছে প্রতি লিটারে ৭.৫ টাকা।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আবহে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে এবং রফতানির ওপর লাগাম টানতে ভারত সরকার নিয়মিত বিরতিতে এই পাক্ষিক পর্যালোচনা চালিয়ে আসছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়। গত ১৬ জুনের পর থেকে এটিই ছিল পরবর্তী পর্যালোচনার সময়।
এই বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি, রফতানি শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়া দেশগুলির তালিকাতেও নতুন সংযোজন করেছে কেন্দ্র। এতদিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় পেট্রল, ডিজেল ও এটিএফ রফতানি করলে বিশেষ শুল্ক দিতে হতো না। এবার সেই তালিকাভুক্ত দেশগুলির তালিকায় মরিশাস এবং মালদ্বীপকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই দেশগুলিতে জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন ছাড় পাওয়া যাবে।
তবে সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্র। নতুন এই বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র রফতানির ওপর ধার্য শুল্কের হার পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। দেশের পেট্রল পাম্পগুলিতে যে দামে পেট্রল ও ডিজেল বিক্রি হয়, সেই আবগারি শুল্কের হারে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে রফতানিকারকদের ক্ষেত্রে করের কাঠামো বদলালেও, ভারতের সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে এর কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম একই থাকছে।
সব মিলিয়ে, বিমান সংস্থাগুলির জন্য এটিএফ-এর মূল্যহ্রাসে যেমন উড়ান খরচ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনই রফতানি নীতিতে ছাড়ের পরিধি বাড়িয়ে ভারত তার বাণিজ্যিক মিত্র দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিল। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই সরকারের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।