ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ জল! ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ৪১০০ গ্রামে ‘মিশন মোড’-এ কাজ শেষ করার নির্দেশ

বাংলার গ্রামীণ জনজীবনে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জোগান সুনিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের (পিএইচই) অধীনে থাকা ‘জল জীবন মিশন’ (JJM) প্রকল্পের কাজকে আরও গতিশীল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। সম্প্রতি সল্টলেকের দফতরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে রাজ্য প্রশাসন আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যের অন্তত চার হাজার একশোটি গ্রামে এই মিশনের কাজ ১০০ শতাংশ সম্পন্ন করার এক কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

মন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দফতরের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য এবং সচিব রণধীর কুমারসহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজের চূড়ান্ত শংসাপত্র বা সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পানীয় জলের মতো অত্যন্ত জনকল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদানে কোনো ধরনের প্রশাসনিক অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।

বৈঠকে শুধুমাত্র বর্তমান কাজের খতিয়ানই নেওয়া হয়নি, বরং আগামীর জন্য একটি পাঁচ বছরের ভিশন প্ল্যান এবং ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ বা কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্প যেন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বড় মাপের পানীয় জল প্রকল্পগুলির কাজের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সুবিধার সুফল ভোগ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের মধ্যে জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের ফলে রাজ্যের গ্রামীণ প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আরও নিশ্চিত হলো। এখন প্রশাসনিকভাবে এই বিপুল কর্মযজ্ঞকে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার ফলে গ্রামীণ বাংলার জলের সংকট অচিরেই মিটবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।