“বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা! উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভয়াবহ বৃষ্টিতে বাতিল একাধিক ট্রেন— কাঞ্চনকন্যা-মহানন্দা এক্সপ্রেসের রুট বদল”

উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় টানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবার ওপরও। জলমগ্ন রেলপথ এবং বিভিন্ন স্থানে ধস নামার কারণে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (NFR) কর্তৃপক্ষ একাধিক ট্রেন বাতিলের পাশাপাশি বহু ট্রেনের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
বাতিল ও পরিবর্তিত ট্রেনের তালিকা
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রবিবার সকাল থেকেই বেশ কিছু ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
বাতিল ট্রেন: শিলিগুড়ি-ধুবড়ি ডেমু, এনজেপি-আলিপুরদুয়ার পর্যটক স্পেশ্যাল (১৫৭৭৭), এবং শিলিগুড়ি-বামনহাট এক্সপ্রেস।
আংশিক বাতিল (শর্ট টার্মিনেটেড): কিছু ট্রেন বিন্নাগুড়ি, গুলমার মতো স্টেশন পর্যন্ত চলবে।
পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে:
পরিবর্তিত রুট: শিয়ালদহ-আলিপুরদুয়ার এক্সপ্রেস, সিকিম-মহানন্দা এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ থেকে আলিপুরদুয়ার-গামী কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস এবং আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে দিল্লিগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস।
এই ট্রেনগুলি এখন নিউ কোচবিহার এবং অন্যান্য ঘুরপথ ধরে চালানো হচ্ছে। এছাড়াও কামাখ্যা- ডঃ আম্বেদকর নগর সাপ্তাহিক এক্সপ্রেসও ঘুরপথে চলছে।
ডুয়ার্স অঞ্চলের মালবাজার থেকে যে ট্রেনগুলি চলাচল করে, সেগুলিকে আপাতত ঘুরপথে চালানো হচ্ছে।
বিপর্যয়ের চিত্র: জলমগ্ন সমতল, বিচ্ছিন্ন পাহাড়
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এক রাতে প্রায় ১৯০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতি ভারী বর্ষণের ফলে:
জলমগ্ন এলাকা: কোচবিহারের মাথাভাঙা, দিনহাটা, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা, ধূপগুড়িসহ বহু এলাকা জলমগ্ন। সাধারণ মানুষের বাড়িতেও জল ঢুকে গিয়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: জাতীয় সড়ক-সহ বিভিন্ন রাস্তায় ধস নেমেছে। এর ফলে সমতল থেকে পাহাড় (দার্জিলিং) কার্যত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রেল লাইনে জল: বানারহাটা সহ একাধিক স্থানে রেললাইনেও জল জমে রয়েছে, যার ফলে পরিষেবা বিপর্যস্ত।
প্রশাসনের তরফে সেচ দফতর এবং পুলিশকে সতর্ক রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। বর্ষার এই সময়ে সাধারণত পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নামে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের একাধিক ট্রেন বাতিলের ভাবনাও রয়েছে রেলের।