বিধ্বংসী বন্যায় ডুয়ার্সের চা শিল্পে ঘোর সঙ্কট! ক্ষতির পরিমাণ ছাড়াল ১০০ কোটি, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় মালিক ও শ্রমিকরা

নাগরাকাটায় সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় কেবল জনজীবন নয়, উত্তরবঙ্গের গর্ব ডুয়ার্সের চা শিল্পও কার্যত ধ্বংসের মুখে। এশিয়ার বৃহত্তম চ্যাংমারি চা-বাগান-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার চা বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চা-বাগান মালিক সংগঠনগুলির প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, ডুয়ার্সের কয়েকটি চা-বাগানেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ভয়াবহ বিপর্যয় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকে গভীর সঙ্কটে ফেলেছে।

বন্যায় চা-বাগান ও শ্রমিকের করুণ অবস্থা
বন্যার রূদ্র রূপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চা-ক্ষেত। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গের সম্পাদক সুমিত ঘোষ জানিয়েছেন, অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ হেক্টর চা-বাগান নষ্ট হয়েছে। তৈরি চা বন্যায় ভেসে গিয়েছে, নষ্ট হয়েছে চায়ের কাঁচা পাতা।

চ্যাংমারি চা-বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার দেবজিৎ দে ইটিভি ভারতকে জানান, ভুটান থেকে নেমে আসা ডায়না নদীর জল ঢুকে তাঁদের ১৮০০ হেক্টরের বাগানেই প্রায় ৫-৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই বাগানের ৩০০ হেক্টর জমিতে নতুন করে চা-গাছ লাগাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ৩০ বছরে চ্যাংমারিতে এমন বিপর্যয় ঘটেনি।

ক্ষতির তালিকায় শুধু চা-গাছ নয়:

শ্রমিক আবাসন: চ্যাংমারিতে ১৫০টি এবং মেচপাড়ায় প্রায় ২০০টি শ্রমিক আবাসন নষ্ট হয়েছে।

পরিকাঠামো: বাগানের রাস্তা, কালভার্ট ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় ফ্যাক্টরিতে চা পাতা আনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নাগরাকাটা চা-বাগানের দুটো ডিভিশনের মাঝে সেতুর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।

সময় ও ভবিষ্যৎ: বাগান মালিকরা জানিয়েছেন, নতুন করে চা-গাছ লাগিয়ে বাগানকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগবে। এই অবস্থায় হাজার হাজার চা-শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে জরুরি সাহায্যের আবেদন
ডুয়ার্সের চা-বাগান মালিক সংগঠনগুলি এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে জরুরি সাহায্য প্রার্থনা করেছে।

টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গের সম্পাদক সুমিত ঘোষ আবেদন করেছেন, “আমরা বারবার বলছি কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। আমাদের চা-বাগানে পরিদর্শন করুক, তদন্ত করে দেখুক কোথায় কোথায় কী অবস্থা। স্থায়ী সমাধান আমাদের চাই।”

অন্যদিকে, এই সঙ্কটকালে সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে আশ্বাস দিয়েছেন, “বন্যার ফলে বেশ কিছু চা-বাগানের অবস্থা ভালো নেই। আমরা সব খতিয়ে দেখছি। আমরা সরকারি ভাবে চা-বাগানের পাশে থাকব।”

চ্যাংমারি চা-বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার দেবজিৎ দে-ও মনে করেন, এই মুহূর্তে সরকারি সহযোগিতা ছাড়া চা-বাগানগুলোর পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো খুব মুশকিল। নাগরাকাটার মতো বামনডাঙা টুন্ডু চা-বাগানের মতো রুগ্ন বাগানগুলির ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই।