জলপ্রপাতে সেলফি তুলতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন মা ও ছেলে, চোখের সামনে যা ঘটল…?

মুহূর্তের আনন্দ নিমেষে রূপ নিল এক বীভৎস বিষাদে। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির বিখ্যাত ঘাগরা জলপ্রপাতে ঘুরতে গিয়ে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সন্তানকে নিয়ে জলপ্রপাতের ধারে ছবি তোলার সময় পা পিছলে গভীর খাদে পড়ে যায় ছোট্ট শিশু। আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে জলপ্রপাতের খরস্রোতে নিখোঁজ হয়ে গেলেন খোদ মা! চোখের সামনে ঘটা এই ভয়াবহ ঘটনায় গোটা পর্যটক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ ওই মহিলার নাম প্রীতি দত্ত (৩৪)। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। স্বামী রাজদীপ দত্ত এবং সাত বছরের ছেলে প্রিয়াঙ্কনকে নিয়ে কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে তিন দিনের ঝাড়গ্রাম সফরে এসেছিলেন তাঁরা। শুক্রবার ঝাড়গ্রামে পৌঁছানোর পর শনিবার তাঁদের বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে জলপ্রপাতের ধারে দাঁড়িয়ে নিজেদের মতো করে ছবি তুলছিলেন ওই দম্পতি। ঠিক সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। ছবি তোলা শেষে উঠে আসার সময়ে হঠাৎই পা পিছলে জলপ্রপাতের গভীর খাদে পড়ে যায় সাত বছরের শিশু প্রিয়াঙ্কন। ছেলেকে বাঁচাতে মুহূর্তের মধ্যে জলে ঝাঁপ দেন মা প্রীতি দেবী। এরপর ছেলেকে উদ্ধারের জন্য বাবাও জলে নামেন। বাবা কোনোমতে ছেলেকে জল থেকে টেনে ডাঙায় তুলতে সক্ষম হলেও, প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যান মা। ঘটনার পর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ মিলছে না।

খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যান এসডিপিও অয়ন সাধু এবং বেলপাহাড়ি থানার আইসি স্বরূপ মুখোপাধ্যায়। জল থেকে উদ্ধার হওয়া অসুস্থ শিশুটিকে প্রথমে বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল ও পরে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জলে ডুবে থাকায় শিশুটির ফুসফুসে জল জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ায় বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

অন্যদিকে, নিখোঁজ মহিলাকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের একটি যৌথ দল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর সূত্রে খবর, জলের তীব্র স্রোত এবং নীচে বড় বড় পাথরের চাঁই থাকায় স্পিডবোর্ড চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডুবুরিদের কোমরে দড়ি বেঁধে এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টর্চ লাইটের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, বর্ষার মরসুমে জলপ্রপাত ফুলেফেঁপে উঠলেও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যে দড়ির ব্যারিকেড থাকার কথা, তা ঠিকমতো না থাকায় পর্যটকরা প্রায়শই বিপজ্জনক জায়গায় চলে যান। এর আগেও ২০২১ সালে এই ঘাগরা জলপ্রপাতে এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। বেলপাহাড়ি ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় বিধায়ক প্রণত টুডু এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ভবিষ্যতে রেলিং নির্মাণ ও নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।