বিজেপি সভাপতির চরম হুঁশিয়ারি, ‘সরকার অপরাধীদের আশ্রয়দাতা!’ খগেন মুর্মু কাণ্ডে এবার NIA তদন্তের দাবি

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাজ্য পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল রাজ্য বিজেপি। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি এই ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

‘পাতালেও ঢুকলে রেহাই নেই’: শমীক ভট্টাচার্য
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও অধরা, এর থেকেই স্পষ্ট এই সরকার অপরাধীদের আশ্রয়দাতা। তবে এই জিনিস দিনের পর দিন চলতে পারে না। সেকারণেই এনআইএ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা এই হামলায় জড়িত, তাঁরা পাতালেও ঢুকলে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কেউ যদি মনে করে থাকেন কোনও সাংসদকে আক্রমণ করে, রক্তাক্ত করে বিজেপিকে ভীতসন্ত্রস্ত করা যাবে, তা হলে ভুল করছেন।”

পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ, আক্রমণের মুখে আরেক বিধায়কও
বিজেপি আবারও দাবি করেছে, খগেন মুর্মু এবং শঙ্কর ঘোষের উপর এই হামলা ছিল ‘পূর্বপরিকল্পিত’। তাঁদের অভিযোগ, যে এলাকায় হামলা হয়েছে, সেখানে তৃণমূল ‘রাজনৈতিক সুবিধা’ করতে না-পারার জন্যই ছক কষে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওঁরাওকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক জনপ্রতিনিধির উপর আক্রমণের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পদ্ম শিবির।

জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ
সোমবার জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন খগেন মুর্মু এবং শঙ্কর ঘোষ। ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হন খগেন মুর্মু, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা।

এই হামলার ঘটনার নিন্দা করে সোমবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে সরাসরি রাজ্য সরকার ও শাসকদল তৃণমূলকে দুষেছিলেন। দু’ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দেন, যদিও তিনি খগেন মুর্মুকে দেখতে হাসপাতালেও গিয়েছিলেন। তবে বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা। এবার এনআইএ তদন্তের দাবি তুলে এই ইস্যুকে আরও বড় মাত্রায় নিয়ে গেল বিজেপি।