ভোট মিটলেও উত্তাপ কমছে না বঙ্গে। ৪ মে ফল ঘোষণার আগে এখন রাজনৈতিক অন্দরে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়— ‘গদ্দারি’ ও ‘অদৃশ্য নজরদারি’। ভোটের দিন কোন নেতা দলের হয়ে জান লড়িয়েছেন, আর কে ঘরে বসে প্রতিপক্ষকে সুবিধা করে দিয়েছেন, তার এক লম্বা তালিকা এখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে। আর সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, তৃণমূলের ভেতরের এই গদ্দারদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছেন বিজেপিরই কিছু ‘অদৃশ্য’ বন্ধু!
বিজেপির অন্দরেই তৃণমূলের চর?
সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের নজরদারি ছিল অভাবনীয়। তথ্য সংগ্রহের কাজে সাহায্য করেছেন খোদ বিজেপির কিছু বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী। রাজনৈতিক মহলে যাদের ‘বিভীষণ’ বলা হচ্ছে, তাঁরাই নাকি শাসক দলকে জানিয়েছেন কোন নেতা দলের সুবিধা নিয়েও পেছন থেকে ছুরি মেরেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান থেকে এমন বেশ কিছু ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে বিজেপি শিবির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্ট দাবি করেছে— ফল বেরোলেই স্পষ্ট হবে কারা দলের সাথে বেইমানি করেছে।
রাডারে বর্ধমানের হেভিওয়েটরা:
পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর এবং খণ্ডঘোষের ওপর বিশেষ নজর ছিল তৃণমূল হাইকম্যান্ডের। জানা গেছে, এক প্রভাবশালী নেতাকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। ভোটের দিন দেখা যায়, তিনি দুপুর পর্যন্ত নিজের গ্রামেই ছিলেন, পরে পূর্বস্থলীর দিকে যান। তাঁর এই রহস্যজনক গতিবিধি এবং খণ্ডঘোষের কয়েকজন নেতার ‘নিষ্ক্রিয়’ ভূমিকা এখন আতশকাঁচের তলায়।
গণনা কেন্দ্রে ‘স্নায়ুযুদ্ধের’ প্রস্তুতি:
এদিকে, শনিবার কাউন্টিং এজেন্ট ও দলের নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করতে চলেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথ ফেরত সমীক্ষাকে (Exit Poll) বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারেন— “গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে।” কোনো রকম প্ররোচনায় পা না দিয়ে, ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখাই হবে এজেন্টদের প্রধান কাজ।
শাস্তির হুঁশিয়ারি:
তৃণমূল ও বিজেপি— দুই শিবিরই এখন ‘ঘর শত্রু’ নিধনে মরিয়া। তৃণমূলের দাবি, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা নেতাদের রেয়াত করা হবে না। অন্যদিকে, বিজেপিও প্রস্তুত হচ্ছে ফল প্রকাশের পর ‘গদ্দার’ চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নিতে।
রাজনীতির লড়াই কি তবে এখন মাঠ ছেড়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ল? গদ্দারি আর বিভীষণের এই খেলা গণনার ফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





