বিকেলের আড্ডায় এবার বইয়ের গন্ধ! হস্টেল জীবন বদলে দিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান, খুশি পড়ুয়ারা

তিলোত্তমার শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বাতাবরণ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা হস্টেলগুলিকে কেবল থাকার জায়গা নয়, বরং প্রকৃত অর্থেই শিক্ষাবান্ধব করে তুলতে একগুচ্ছ অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে হস্টেল চত্বরেই ‘মিনি লাইব্রেরি’ বা ছোট পাঠাগার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত। কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে খুশি পড়ুয়া মহল।

হস্টেলের অন্দরেই জ্ঞানের ভাণ্ডার দীর্ঘদিন ধরেই দাবি ছিল, হস্টেলের পড়াশোনার পরিবেশকে আরও উন্নত করার। সেই লক্ষ্যেই এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হস্টেলে তৈরি করা হবে ছোট ছোট লাইব্রেরি। যেখানে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি থাকবে রেফারেন্স বই, সাহিত্য এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির রসদ। এর ফলে গভীর রাতে বা লাইব্রেরি বন্ধের দিনেও পড়ুয়ারা নিজেদের হস্টেলে বসেই নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।

পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর কেবল লাইব্রেরি নয়, হস্টেলগুলিকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে একগুচ্ছ পরিবর্তন আনতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পঠনপাঠনের জন্য হস্টেলের কমন রুমগুলির আধুনিকীকরণ।

  • ইন্টারনেট ও ওয়াই-ফাই পরিষেবার মানোন্নয়ন।

  • শৌচাগার ও পানীয় জলের পরিকাঠামো সংস্কার।

উপাচার্যের ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ছাত্রছাত্রীরা যাতে হস্টেলে থাকাকালীন পড়াশোনা থেকে দূরে সরে না যান এবং গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ পান, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। মূলত মেধা এবং পড়াশোনার সুস্থ সংস্কৃতি বজায় রাখতেই ‘মিনি লাইব্রেরি’র ধারণাটি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি হস্টেলে এই কাজ শুরু হলেও, ধাপে ধাপে সবকটি ছাত্রাবাসেই এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

পড়ুয়াদের প্রতিক্রিয়া কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিকরা। পিজি-র এক ছাত্রের কথায়, “অনেক সময় লাইব্রেরি থেকে বই এনে হস্টেলে পড়তে অসুবিধা হয়। ঘরের কাছেই যদি ছোট একটা সংগ্রহশালা থাকে, তবে আমাদের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বাড়বে।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মানবিক ও শিক্ষামুখী পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy