“বাসচালক থেকে ৫০ কোটির মালিক!”-বীরভূমের মিনার মণ্ডলের উত্থানের গল্প শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

একসময়ে সাধারণ বাসচালক হিসেবে জীবন কাটাতেন। মাইনেও ছিল নামমাত্র। কিন্তু সেই সামান্য বেতনের চাকরি ছেড়ে জামাইবাবু টুলু মণ্ডলের হাত ধরে পাথর ব্যবসায় পা রাখার পরেই বদলে যায় ভাগ্য! বীরভূমের মিনার মণ্ডলের সাদামাটা বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা ও সোনার বিস্কুট। সবমিলিয়ে যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এই বিপুল সম্পত্তির কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় বৃহস্পতিবার মিনার মণ্ডলকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডাকাত ধরতে গিয়ে মিলল টাকার পাহাড়

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত একটি ডাকাত দলকে ধরতে গিয়েই এই বিপুল সম্পত্তির খোঁজ মেলে। সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার পুলিশ একটি ডাকাতদলকে গ্রেফতার করে। সেই ধৃতদের জেরা করার সময়ই পুলিশ জানতে পারে যে, স্থানীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুকিয়ে রাখা রয়েছে এবং সেই বাড়িতে ডাকাতি করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

এই তথ্য পাওয়ার পরেই মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি ও টাকা গোনার ম্যারাথন প্রক্রিয়া বৃহস্পতিবার শেষ হয়। বিশাল বিশাল ট্রাঙ্ক ও নোট গোনার যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ধার হওয়া নগদ ও সোনা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। মিনারের ছেলের দাবি, এই সমস্ত নগদ টাকা এবং সোনার বিস্কুট নাকি টুলু মণ্ডলই তাঁদের বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন। বর্তমানে গোটা বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং মিনারের পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র সরে গিয়েছেন।

বাসচালক থেকে ‘কোটিপতি ম্যানেজার’—কে এই মিনার মণ্ডল?

তদন্তে উঠে এসেছে মিনার মণ্ডলের চমকপ্রদ অতীত:

  • বাসচালক জীবন: একসময় সরকারি বাসের চালক হিসেবে কাজ করতেন মিনার। সেই সময়ে তাঁর আয় ছিল অত্যন্ত সীমিত।

  • সম্পর্ক ও উত্থান: মিনার হলেন বীরভূমের দাপুটে পাথর ব্যবসায়ী তথা অনুব্রত মণ্ডল-ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডলের শ্যালক। টুলু মণ্ডলকে একসময় বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ বলা হতো, যিনি মেয়ের বিয়েতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন।

  • ম্যানেজার হিসেবে কাজ: প্রায় চার বছর আগে সরকারি বাসচালকের চাকরি ছেড়ে দেন মিনার। এরপর জামাইবাবু টুলুর পাথর ব্যবসায় যোগ দিয়ে তাঁর ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। টুলুর ইজারা নেওয়া ডিসিআর (Duplicate Challan Receipt) গেটগুলির মধ্যে রায়পুরের গেটটির সম্পূর্ণ দেখভাল করতেন মিনার। আর এই ব্যবসার আড়ালেই তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠে এই বিশাল কালো টাকার সাম্রাজ্য। এখন এই দুর্নীতিতে টুলু ও মিনারের যোগসূত্র নিয়ে আরও গভীরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।