বাসচালক থেকে ৫০ কোটির মালিক! টাকার পাহাড় উদ্ধারের নেপথ্যে কে এই টুলু মণ্ডল?

বীরভূমের মহম্মদবাজারের মিনার মণ্ডলের সাদামাটা বাড়িটি বাইরে থেকে দেখলে বোঝার কোনো উপায়ই ছিল না যে তার অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে অঢেল ধনসম্পদ। পুলিশের সাম্প্রতিক তল্লাশিতে সেই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে সাঁড়ে ২৮.৫ কোটি টাকা এবং ১৫ কিলোগ্রাম সোনার বাট। সবমিলিয়ে যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা বা সোনা আসলে কার? আর কে এই মিনার মণ্ডল? চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি:

১. বাসচালক থেকে ম্যানেজারের জীবন
উদ্ধার হওয়া টাকার মালিক মিনার মণ্ডল একসময় উত্তরবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ নিগমের (NBSTC) বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরবর্তীকালে সেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

২. ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের সঙ্গে আত্মীয়তা ও যোগসূত্র
মিনার মণ্ডলের আরও একটি বড় পরিচয় হলো তিনি বীরভূমের কুখ্যাত ‘পাথরসম্রাট’ হিসেবে পরিচিত নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের পিসতুতো বোনের স্বামী (সম্পর্কে ভগ্নিপতি)। বাসচালকের চাকরি ছাড়ার পর টুলুর টোল বা পাথর ব্যবসার ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন মিনার। পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডল যে কটি ডিসিআর (Duplicate Challan Receipt) গেট ইজারা নিয়ে চালাতেন, তার মধ্যে রায়পুরের ডিসিআর গেটের সম্পূর্ণ দেখভাল করতেন মিনার নিজেই।

৩. দিনমজুর থেকে বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডল
মহম্মদবাজার থেকে শুরু করে মুরারই ও নলহাটি পর্যন্ত বিস্তৃত ব্যাসল্ট পাথরের খনি থেকে রাজ্য, ভিনরাজ্য এমনকি বাংলাদেশেও কালো স্টোনচিপ সরবরাহের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল এই টুলু মণ্ডলের হাতে। প্রথম জীবনে ক্রাশারে আসা লরিতে দিনমজুর হিসেবে পাথর বোঝাই করার কাজ করতেন টুলু। ধীরে ধীরে লরিচালকদের সঙ্গে চুক্তি করে পাথর বোঝাইয়ের বরাত নেওয়া শুরু করেন। ২০১০ সালের মধ্যে একটি পুরোনো লরি কিনে নিজেই পাথর সরবরাহ শুরু করেন এবং কয়েক বছরের মধ্যে হয়ে ওঠেন এলাকার একচ্ছত্র পাথর ব্যবসায়ী। পাথরের পাশাপাশি তাঁর বালির ব্যবসাও ছিল। গরুপাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই টুলুর নামও বিভিন্ন মহলে জোরালোভাবে ভেসে উঠেছিল।

৪. কীভাবে ফাঁস হলো এই টাকার পাহাড়?
খোদ বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ নিশ্চিত করেছেন যে মিনারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ওই বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা আদতে টুলু মণ্ডলেরই। কিন্তু এই হদিশ মিলল কী করে?

সম্প্রতি মহম্মদবাজার থানা একটি ডাকাতদলকে গ্রেপ্তার করে।

সেই ধৃতদের জেরা করার পরেই পুলিশ জানতে পারে যে মিনার মণ্ডলের বাড়িতে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে এবং সেই বাড়িতে ডাকাতি করাই ছিল ওই দলটির মূল টার্গেট।

এর পরেই সেই তথ্যের সূত্র ধরে মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ এবং উদ্ধার হয় টাকার পাহাড় ও সোনার বিস্কুট।

মিনারের ছেলেরও দাবি, এই সমস্ত নগদ টাকা ও সোনার বিস্কুট টুলু মণ্ডলই তাঁদের বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন।

ইতিমধ্যেই পুলিশ টুলু মণ্ডলের নিজের বিলাসবহুল বাড়িতেও তল্লাশি চালানো শুরু করেছে। পাথরের ব্যবসার আড়ালে এই বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য এবং কোটি কোটি টাকা জমা করার নেপথ্যে আর কাদের হাত রয়েছে, তা নিয়ে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।