বিদেশযাত্রায় হাইকোর্টের বাধা! চোখের চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। গত ২০ জুলাই একক বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়নি।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আইনি স্বস্তি দিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, অভিষেককে অবশ্যই পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না। ৬ অক্টোবর অথবা পরবর্তী নির্দেশ—এর মধ্যে যেটি আগে আসবে, সেই সময় পর্যন্তই এই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে বিচারক স্পষ্ট করেছিলেন যে, এই শর্তাবলী পরিবর্তনের জন্য তৃণমূল সাংসদের করা বিশেষ আবেদনটির পরবর্তী শুনানি আগামী অগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হবে, যদিও সেই সময় সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চোখের জটিল চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত বা আবেদনকারীকে শর্তসাপেক্ষেও বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে যে হাইকোর্ট একেবারেই আগ্রহী নয়, তা বিচারপতি ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। শুনানিমঞ্চে তিনি মন্তব্য করেন যে, খোদ কলকাতাতেই একাধিক বিশ্বমানের নামী চোখের চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল রয়েছে। তৃণমূল সাংসদের উচিত প্রথমে সরকারি এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং পরামর্শ নেওয়া। তিনিই একমাত্র সিদ্ধান্ত নেবেন যে অভিষেকের চোখের সুনির্দিষ্ট এই জটিল সমস্যার চিকিৎসা রাজ্য সরকারের এই হাসপাতালেই সম্ভব কি না।