বারুইপুর কাণ্ডে ফুঁসছে বাংলা! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে রাতভর পুলিশি তৎপরতা, কী ঘটছে নেপথ্যে?

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন গোটা রাজ্য শোকে ও ক্ষোভে ফুঁসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিলো রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রবিবার গভীর রাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হলো তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি অভিযোগ, বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যাওয়া আটকানোর জন্যই কৌশলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ বা গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে, যখন বারুইপুরে এক ১০ বছরের নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে সেখানে গিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সন্ধ্যার পরপরই তাঁর কালীঘাটের বাড়ির চারপাশের রাস্তায় অস্বাভাবিক পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। তৃণমূলের আইটি সেল থেকে নিরাপত্তার বলয় তৈরির ছবি ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

নিজে গৃহবন্দি হওয়ার আশঙ্কা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে সরব হন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের নিন্দা করে তিনি বলেন, “আমাদের নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে শুনছি। মুখে কেউ না বললেও বাস্তবে এটিই হাউস অ্যারেস্টের মতো পরিস্থিতি।” অতীতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই স্বাভাবিক। তিনি বারবার দাবি করেন, তিনি শুধুমাত্র মানবিক কারণে, কোনো অশান্তি ছড়ানোর জন্য নয়, বরং পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই বারুইপুরে যেতে চেয়েছিলেন।

তবে রবিবার রাত পেরোতেই সোমবার সকালে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যে অতিরিক্ত বাহিনী রাতভর মোতায়েন ছিল, তারা যেন এক লহমায় উধাও! কালীঘাটের চত্বরে এখন শুধুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্ধারিত নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। পুলিশের এই হঠাৎ সক্রিয়তা এবং তারপর আবার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সত্যিই কোনো ‘মাস্টার প্ল্যান’ ছিল? নাকি সবই নিছক কাকতালীয়?

এদিকে বারুইপুরের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে পুলিশি অভিযান জারি থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হাউস অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিরোধীদের একাংশ একে প্রশাসনের রুটিন ব্যবস্থা বলে দাবি করলেও, তৃণমূল শিবির একে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ হিসেবেই চিহ্নিত করছে। আগামী দিনে এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিলেও, শাসক-বিরোধী এই সংঘাতের রেশ যে সহসা কাটবে না, তা বলাই বাহুল্য।