পুকুরে মিলল দশ বছরের নাবালিকার দেহ! বারুইপুর ধর্ষণকাণ্ডে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্য

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানা এলাকায় এক ১০ বছর বয়সী নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গতকাল সকালে বাড়ির কাছেই একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে শুরু হওয়া পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তে নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত মিলতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত নাবালিকা ওই এলাকারই বাসিন্দা ছিল এবং প্রতিদিনের মতো গতকালও সে স্বাভাবিকভাবেই ছিল। কিন্তু আচমকাই তার মর্মান্তিক পরিণতি এলাকাবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী এবং চঞ্চল ছিল। তার এমন অকাল ও বীভৎস মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারসহ গোটা পাড়ায়। ধৃতদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্থানীয় এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও প্রমাণ উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের মোড় ঘোরাতে সাহায্য করবে।
এই ভয়াবহ ঘটনা ঘিরে বারুইপুর এলাকায় এখন আতঙ্কের পরিবেশ। স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনার পর থেকে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। এক প্রতিবেশী আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের চোখের সামনে বড় হওয়া মেয়েটি এভাবে প্রাণ হারাবে, ভাবতেই পারছি না। দোষীদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।” ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলি এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকাগুলিতে শিশু নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেয়ে শিশুদের ওপর এ ধরনের ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তারা। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শোকাহত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। বারুইপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্ত অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। নাবালিকার মৃত্যুতে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ।