বারুইপুর কাণ্ডে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি! পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ৬-৭ জুলাই রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বামেদের

বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার উদ্ধার হওয়া ওই নাবালিকার দেহ ঘিরে উত্তাল এলাকা। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আগামী ৬ ও ৭ জুলাই রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি।
অভিযোগ কী? সিপিএম নেতা লায়েক আলি এবং এআইডিএসও (AIDSO)-এর রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। লায়েক আলির দাবি, স্থানীয়রা কয়েকজনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, এলাকার এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার নির্দেশে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। এটিই এলাকাবাসীর ক্ষোভের মূল কারণ।
বিক্ষোভের ডাক ও দাবি: বামপন্থী নেতাদের অভিযোগ, শাসকদলের একাংশ ও স্থানীয় বিজেপি নেতাদের মদতে পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল করছে। এআইডিএসও-র রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “আরজি কর আন্দোলনের সেই দিনগুলোর মতোই এবার নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথ দখল করতে হবে। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
কী ঘটেছিল বারুইপুরে? শনিবার বিকেলে খাবার কেনার নাম করে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ওই নাবালিকা। পরে রবিবার পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। উত্তেজিত জনতা দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখায়। শোনা গেছে, গণপিটুনিতে একজন অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বারুইপুর কাণ্ডকে হাতিয়ার করে বামেরা সরাসরি বিজেপি নেতৃত্ব এবং পুলিশের সমন্বয়হীনতাকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন শিথিল হয়ে পড়েছে। সরকারের তরফে বা বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এই ঘটনায় রাজনৈতিক জল যে অনেক দূর গড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।