বারুইপুরে ফের নাবালিকার ওপর নির্যাতন! জঘন্য কাণ্ডে শিউরে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনা

কয়েকদিন আগের মর্মান্তিক ঘটনায় নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে যখন গোটা এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছিল এবং পুলিশের এনকাউন্টারে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল, ঠিক সেই আবহেই ফের একবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুলিশ জেলা থেকে নাবালিকা নির্যাতনের এক অত্যন্ত গুরুতর ও লজ্জাজনক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়ে এবার সরাসরি সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ সুনির্দিষ্ট পসোক আইনে মামলা রুজু করে দুই অভিযুক্ত নাবালককে গ্রেফতার করেছে এবং গোটা এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেলে ওই স্কুলছাত্রী তার ছোট ভাইকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনছিল। সেই সময় সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে বা সুযোগ বুঝে দুই অভিযুক্ত নাবালক ওই ছাত্রীর পিছু ধাওয়া করতে শুরু করে এবং কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার মাঝে তার পথ জোরপূর্বক আটকে দেয়। শুধু তাই নয়, সর্বসমক্ষে ওই ছাত্রীর নাম এবং তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর চেয়ে চরম অশালীন আচরণ ও কটূক্তি করতে থাকে তারা। রাস্তায় প্রকাশ্যে এই ধরনের আপত্তিকর ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা জোর করে তার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে এবং একপর্যায়ে ছাত্রীকে বলপ্রয়োগ করে অন্য কোথাও তুলে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিনের আলোয় জনবহুল রাস্তায় এই ধরণের অমানবিক ও জঘন্য আচরণ দেখে ভয়ে ও আতঙ্কে ওই নাবালিকা উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করে। ছাত্রীর সেই প্রাণপণ আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লোকজনের তৎপরতায় ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন। এরপর ভুক্তভোগী নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে বারুইপুর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত নড়েচড়ে বসে এবং গভীর রাতে তল্লাশি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া অপর অভিযুক্ত নাবালককেও আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ গত বৃহস্পতিবারই দুই অভিযুক্তকে আইনমাফিক জুভেনাইল হোম বা কিশোর সংশোধনালয়ে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি, এই পৈশাচিক ঘটনার শিকার হওয়া নাবালিকা ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিকেল টেস্টও সম্পূর্ণ করা হয়েছে যাতে সমস্ত আইনি প্রমাণ সুরক্ষিত থাকে। প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রীর ওপর এই ধরনের আক্রমণের ঘটনায় জড়িত ওই দুই অভিযুক্তের কঠোরতম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালোভাবে তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। সমাজের এই অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্যাতিতার মা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন যে, ক্লাসের মধ্যেই তারা অপ্রীতিকরভাবে গা ঘেঁষাঘেঁষি করছিল এবং সেই কারণে তাঁর মেয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু ফেরার পথেই যেভাবে তার হাত ধরে টানাটানি করা হয়েছে, তাতে আজ সাধারণ ঘরের মেয়েদের নিরাপত্তা এবং চলাফেরা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছে বলে তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন।