টুকরো টুকরো হচ্ছে পাকিস্তান! পিওকে থেকে বালুচিস্তান—চারিদিকে গৃহযুদ্ধের আগুনে পুড়ছে খোদ পরমাণু শক্তিধর দেশ!

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সীমান্ত পেরিয়ে চরম সন্ত্রাস এবং সাধারণ মানুষের ফুঁসে ওঠা আক্রোশে পাকিস্তান বর্তমানে বহুমুখী ও এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ভারতের অবৈধ জবরদখলে থাকা জম্মু ও কাশ্মীর (PoK) এলাকায় তড়িঘড়ি আয়োজিত প্রহসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAC)-র নেতৃত্বে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, সস্তা আটা ও ট্যাক্সের মতো মৌলিক সুবিধার দাবিতে ফুঁসে উঠলেও, পাক প্রশাসন বলপ্রয়োগ করে সেই আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে। স্নাইপার দিয়ে গুলি চালিয়ে বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ প্রশাসনের দাবি, এসব আন্দোলন আসলে সন্ত্রাসবাদেরই অংশ।

অন্যদিকে, দেশের বৃহত্তম প্রদেশ বালুচিস্তানে পরিস্থিতির সম্পূর্ণ অবনতি হয়েছে। বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA) এবং পশতুন বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে এই অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা। কোয়েটা, খুজদার কিংবা মাসতুং-এর মতো শহরে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা প্রকাশ্যেই পুলিশ থানা এবং সরকারি দপ্তরগুলিতে আক্রমণ চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই এলাকাতেই অবস্থিত গ্বদর বন্দরে চিনের একচ্ছত্র আধিপত্যের জেরে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজর রয়েছে এই অঞ্চলের অমূল্য খনিজ সম্পদের ওপর।

অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে পাক সরকারের নিয়ন্ত্রণ। আফগান সীমান্তসংলগ্ন এই অঞ্চলে ডুরান্ড লাইনের আশপাশে এখন তালিবান ও টিটিপি (TTP)-র রমরমা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে তিন হাজারের বেশি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার সিংহভাগই ঘটেছে এই খাইবার অঞ্চলে। সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৭ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খাইবার ও ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলে পাক ফৌজের বহু চৌকি আজ খালি পড়ে রয়েছে এবং সেখানে চলছে কট্টর শরিয়ত আইন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অনুগামীদের ক্ষোভ এবং অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের জেরে গোটা পাকিস্তান আজ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।