৪৪ কোটির জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন তবুও ঝুলে রয়েছে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ! ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের মনে!

উত্তরপ্রদেশের বরেলি বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমি মালিকদের প্রায় ৪৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত সম্প্রসারণের মূল কাজ একচুলও এগোয়নি। মূল প্রশাসনিক সমস্যার কারণ হলো, অধিগ্রহণ করা জমির লিজ সংক্রান্ত ফাইলটি বর্তমানে রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুমোদন ও নির্দেশিকার অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। প্রশাসন সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফাইলটি সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিলেও এখনও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সরকারের তরফ থেকে সবুজ সঙ্কেত এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা আসার পরই জমিটি এয়ারপোর্ট অথরিটির হাতে লিজ হিসেবে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে, যার ওপর নির্ভর করছে পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।

বর্তমানে বরেলি বিমানবন্দর থেকে বেঙ্গালুরু, মুম্বই, দিল্লি এবং জেবরের নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে। প্রতিদিন এই বিমানবন্দর ব্যবহার করা যাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪১০ জন যাত্রী বিমান পরিষেবা নিচ্ছেন, যার ফলে বর্তমান পরিকাঠামো আগামী দিনের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হয়ে পড়ছে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে চালু হওয়া নতুন টার্মিনাল ভবনটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার বর্গমিটার, যেখানে একসঙ্গে তিনশো জনের বেশি যাত্রীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে। সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে প্রায় ৭০০ জনে উন্নীত করার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি, বিমান পার্কিংয়ের জন্য এপ্রনের আয়তনও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একধিক বিমান একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে এবং নতুন নতুন গন্তব্যের ফ্লাইট পরিচালনা করা যায়।

এই সামগ্রিক সম্প্রসারণের জন্য মোট ২৩.৫৫ একর জমি চিহ্নিত ও অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ১৬.৯৭ একর ব্যক্তিগত জমি এবং বাকি জমি গ্রামসভা, রাজ্য সরকার ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ। ব্যক্তিগত জমির অধিকার ও ক্ষতিপূরণের অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হলেও লিজের আইনি প্রক্রিয়া আটকে থাকায় পুরো কাজ থমকে রয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে গোয়া, জয়পুর, কুশিনগরের মতো নতুন শহরে বিমান চালুর পরিকল্পনাও মার খাচ্ছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি, সরকারের কাছ থেকে নির্দেশিকা আসার সঙ্গে সঙ্গেই লিজের প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।