বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন: পরিস্থিতি সামলাতে জারি ১৬৩ ধারা, গ্রেফতার ২, মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী

নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও নৃশংস খুনের ঘটনায় আজও থমথমে বারুইপুর। রবিবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর থানা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই সব এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। কোনো ধরনের বেআইনি জমায়েত বা বিক্ষোভ রুখতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বারুইপুর পুলিশ জেলা প্রশাসন বিভিন্ন জেলা থেকে এমন দক্ষ আধিকারিকদের নিয়ে এসেছে, যাঁদের আগে এই এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে এলাকাটি পুলিশি নজরদারিতে কার্যত দুর্গের রূপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। ক্লাস সিক্সের ওই ছাত্রী বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। এরপরই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাবালিকার দেহ উদ্ধার হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদেহ রাস্তায় রেখেই দীর্ঘক্ষণ চলে বিক্ষোভ। উত্তেজিত জনতা খুনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয়, পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ রবিবার একজনকে গ্রেফতার করেছিল, আজ আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২। এছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের মামলার পাশাপাশি আরও দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে—একটি গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং অপরটি সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে প্ররোচনায় পা না দেওয়ার এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জেলা পুলিশ জানিয়েছে।