বঙ্গসন্তান শ্যামাপ্রসাদের আত্মত্যাগ ও আদর্শ, কেন ৩৭০ ধারা বিলোপের মাধ্যমে তাঁকে প্রকৃত সম্মান দিল মোদি সরকার?

ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং বঙ্গসন্তান ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার এই বিশেষ দিনে শ্যামাপ্রসাদের জীবনদর্শন, ত্যাগ এবং তাঁর আদর্শকে কেন্দ্র করে হিন্দিতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এক বিশেষ পোস্টে তিনি দাবি করেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অবসান ঘটিয়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে প্রকৃত সম্মান জানাতে পেরেছে তাঁর সরকার।
প্রতিবেদনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যে সমস্ত ভারতবাসী জাতীয়তাবাদকে জীবনের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে মনে করেন, তাঁদের কাছে ৬ জুলাই একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। শ্যামাপ্রসাদ তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে প্রমাণ করেছেন যে, তাঁর কাছে ‘মা ভারতী’র সেবার ঊর্ধ্বে অন্য কিছুই ছিল না। অসীম সাহসিকতা, বৌদ্ধিক প্রখরতা এবং জনসাধারণের সেবার প্রতি একনিষ্ঠ দায়বদ্ধতা তাঁকে তাঁর সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সুযোগ্য সন্তান শ্যামাপ্রসাদ চাইলে অত্যন্ত বিলাসবহুল ও নিশ্চিত জীবন অতিবাহিত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথ বেছে নেননি। দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য তিনি এক কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন। ঔপনিবেশিক শক্তির প্রভাব এবং বামপন্থী আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় তিনি কখনও নীরব দর্শক হয়ে থাকেননি। বরং আদর্শের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অকুতোভয়।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পশ্চিমবঙ্গ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের প্রসঙ্গ। বাংলা যেন অবিভক্ত ভারতের অংশ হিসেবে অটুট থাকে, তা নিশ্চিত করার পেছনে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। কাশ্মীরে যাওয়ার সময় তিনি যে লড়াই করেছিলেন এবং জেলের অন্তরালে যে নিঃসঙ্গতা ও প্রতিকূলতাকে জয় করেছিলেন, তা আজও অনুপ্রাণিত করে। বিনোবা ভাবের উদ্ধৃতি দিয়ে মোদি লেখেন, শ্যামাপ্রসাদ তাঁর বিশ্বাসের জন্য চরম আত্মত্যাগ করেছিলেন।
প্রতিবেদনের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ৭৫ বছর আগে নেহরু সংবিধান সংশোধনী বিল এনে দেশের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হেনেছিলেন, যার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। মোদির কটাক্ষ, যে নেহরু মতপ্রকাশের অধিকারকে সঙ্কুচিত করেছিলেন, তাঁর অনুগামীদের শাসনেই পরবর্তীতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল।
পরিশেষে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব এবং নেহরুর প্রথম মন্ত্রিসভায় যোগদান ও পরবর্তীতে আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে মন্ত্রিত্ব ত্যাগের বিষয়টি সবিস্তারে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশসেবার ব্রত নিয়ে সরকারে যোগ দিলেও যখন তিনি উপলব্ধি করেন যে সরকারে থেকে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়, তখন তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদের এই আপসহীন জীবনদর্শন আজও ভারতের প্রতিটি নাগরিকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।