“বাবার অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক….”, কেন বাবা মাকে হত্যা করেছে গোপন তথ্য জানাল মেয়ে!

উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। ছবি তোলার পর দোকান থেকে বের হওয়ার সময়ই এক মহিলাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করে তার স্বামী। এই ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বয়ানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
ঘটনাটি গোরক্ষপুরের শাহপুর এলাকার। জানা যায়, জেল রোডের বাসিন্দা বিশ্বকর্মা চৌহান প্রায় ১৫ বছর আগে ৩৫ বছর বয়সী মমতা চৌহানকে বিয়ে করেন। প্রথম দিকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই ছিল, তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সম্পর্কে তিক্ততা আসে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন। ১৪ মাস আগে মমতা তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান এবং একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক আদালতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। এই পরিস্থিতিতেই মমতা তার স্বামীকে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু বিশ্বকর্মা এতে রাজি হচ্ছিলেন না। মেয়ের বয়ান অনুযায়ী, বিশ্বকর্মার একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তার মা এর প্রতিবাদ করলে বাবা তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এই ঝগড়ার জেরেই তারা আলাদা হয়ে যান।
পুলিশের কাছে বিশ্বকর্মা জানিয়েছে, ছয় মাস আগে আদালতে যখন সে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল, তখন মমতার এক পুরুষ বন্ধু তাকে মারধর করে। এরপরই বিশ্বকর্মা নিশ্চিত হন যে তার স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। এই ঘটনায় প্রতিশোধ নিতেই সে তার জমি বিক্রি করে একটি পিস্তল কেনে এবং মমতাকে খুন করার পরিকল্পনা করে। বিশ্বকর্মা আরও দাবি করেন, মমতা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, কিন্তু তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও দাবি করছিলেন।
বর্তমানে অভিযুক্ত বিশ্বকর্মাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তাকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই ঘটনা আবারও পারিবারিক হিংসার অন্ধকার দিকটি সামনে এনেছে।