২৫ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কড়া শাস্তির মুখে অভিযুক্তরা

গোয়ার অত্যন্ত আলোচিত ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ (Birch by Romeo Lane) নাইট ক্লাব অগ্নিকাণ্ড মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে চরম আইনি ধাক্কা খেলেন অভিযুক্ত তিন সহ-মালিক। সোমবার (৩১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট বম্বে হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রেখেছে, যেখানে সৌরভ লুথরা, গৌরব লুথরা এবং অজয় গুপ্তার জামানত বা জামিন খারিজ করা হয়েছিল। দেশের শীর্ষ আদালত অভিযুক্তদের সমস্ত জামিনের আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি শেষে অভিযুক্ত সৌরভ লুথরা, গৌরব লুথরা এবং অজয় গুপ্তাকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, আদালত নিম্ন আদালতকে এই চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং দ্রুত অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ জারি করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে উত্তর গোয়ার আরপোড়ার বিখ্যাত ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইট ক্লাবে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ২৫ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ক্লাবটি ‘মেসর্স বিয়িং জিএস হসপিটালিটি আরপোরা এলএলপি’ নামক সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতো, যার প্রধান অংশীদার ছিলেন লুথরা ব্রাদার্স ও অজয় গুপ্তা। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা গোটা দেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
পুলিশের বিস্তৃত তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল যে, ওই ক্লাবের কাছে জনবহুল স্থানে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো আইনি নিরাপত্তা অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছিল না। এমনকি সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। তদন্তে উঠে আসে যে, কোনো ধরনের সুরক্ষা প্রোটোকল না মেনেই ক্লাবের ভেতরে একটি বিপজ্জনক ইনডোর ফায়ার শো বা আগুনের খেলা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। গোয়া পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগে জানানো হয়েছে যে, রেস্তোরাঁটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চালানো হচ্ছিল।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত লুথরা ব্রাদার্স গোপনে থাইল্যান্ডে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁদের ভারতীয়ে ফিরিয়ে আনা হয় এবং গোয়া পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ক্লাবের অন্য অংশীদার, ম্যানেজার, ইভেন্ট অর্গানাইজার এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র কঠোর ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন, মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং চরম অবহেলার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। এর আগে নিম্ন আদালত জামিন দিলেও গোয়া সরকারের আপিলের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি নীলা গোখলে অভিযুক্তদের জামিন বাতিল করেছিলেন। যার বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শেষরক্ষা হলো না।