অন্ধকার নামলেই গর্ভগৃহে ইঁদুর-শোকার্তের উপদ্রব! বিশ্বখ্যাত মন্দিরের সুরক্ষায় নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

ওড়িশার বিশ্বখ্যাত এবং কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর আস্থার প্রতীক পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহে ইঁদুর এবং তেলাপোকার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবায়েত ও মন্দির প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইঁদুর বা তেলাপোকার মতো কীট-পতঙ্গ যাতে স্বয়ং ভগবান জগন্নাথদেবের পবিত্র শ্রীঅঙ্গ কিংবা পূজাসামগ্রীতে কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে, তার জন্য অতি দ্রুত একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর সমস্যাটির সমাধানের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA)-এর কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পুরীর জেলা কালেক্টর দিব্যজ্যোতি পরিডার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মন্দিরের প্রবীণ সেবায়েত, ছতীশ নিজোগের নায়ক জনার্দন পাটাযোশী মহাপাত্র এবং দৈতাপতি নিজোগের সম্পাদক সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর জানানো হয় যে, প্রতি রাতে মহাপ্রভুর শয়ন বা বিশ্রামের সময় গর্ভগৃহে ও তার আশেপাশের এলাকায় সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা হয়। আর ঠিক সেই সুযোগেই ইঁদুর ও তেলাপোকার দল অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং গর্গর্ভগৃহের অন্দরে অবাধে বিচরণ করতে শুরু করে।

মন্দিরের প্রাচীন ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান এবং শাস্ত্রীয় বিধান মেনে এই সমস্যার মোকাবিলার জন্য বেশ কিছু বিশেষ এবং ঐতিহ্যবাহী পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। ইঁদুর ধরার জন্য বিশেষ জালের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তেলাপোকাকে আকৃষ্ট করে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে গুড়ভর্তি পাত্র পেতে রাখার মতো নানা দেশীয় ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন রাতে প্রভু বিশ্রামের সময় জয়-বিজয় দ্বার থেকে গর্ভগৃহ পর্যন্ত গোটা এলাকায় অন্ধকার থাকে, যা এই কীটগুলির উপদ্রবের প্রধান সময়। মন্দিরের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পবিত্রতার অমর্যাদা না করেই এই সংকট কাটাতে এসজেটিএ-র প্রধান প্রশাসকের নেতৃত্বে খুব শীঘ্রই আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ওড়িশার পুরীতে অবস্থিত ভগবান শ্রী জগন্নাথ দেবের এই পবিত্র মন্দিরটি সনাতন ধর্মের চার প্রধান ধামের অন্যতম একটি অত্যন্ত পবিত্র ক্ষেত্র। এখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ভগবানের দর্শনের জন্য ছুটে আসেন। প্রতি বছর মহাসমারোহে এখানকার ঐতিহাসিক রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জগন্নাথ প্রভু তাঁর বড় দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে রথে চড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে নগর ভ্রমণে বের হন। মন্দিরের অন্দরের এই সাম্প্রতিক সমস্যা যাতে দ্রুত মিটে যায় এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।