বাতিল শব্দবাজির পাহাড় উদ্ধার! বাগদায় প্রধানের পদত্যাগ আর বিধানসভায় বড় সংশোধনী বিল নিয়ে চরম চর্চা

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জ এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ এক অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে প্রায় ১৭০০ কেজি নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও ৬০ কেজি বারুদ উদ্ধার করেছে। এই বেআইনি বাজি তৈরির অভিযোগে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে মোট তিনটি কারখানা সিল করে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এই আকস্মিক পদক্ষেপে বেআইনি বাজি কারবারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক খবরে জানা গিয়েছে যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ববর্তী হিংসার অভিযোগে হুগলি জেলা থেকে এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত এই নেতার নাম সৌমেন ঘোষ, যিনি একাধারে ধনেখালি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এবং ধনেখালি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধীদের বাড়িতে আক্রমণ চালানো, ভাঙচুর করা, নানাভাবে হুমকি দেওয়া এবং জোর করে তোলাবাজি করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ধনেখালি এলাকার রাজনৈতিক মহলে তিনি স্থানীয় বিধায়ক অসীমা পাত্রের ঘনিষ্ঠ বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের মালিপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতে দেখা দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক নাটক। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তৃণমূল পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল গতকাল বাগদার বিডিও আধিকারিকের দপ্তরে নিজের লিখিত ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। তবে প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তিনি পঞ্চায়েতের সাধারণ সদস্য পদ ছাড়ছেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। এই মালিপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ৩০ জন সদস্যের মধ্যে ১৬ জন তৃণমূলের, ১১ জন বিজেপির এবং বাকি ৩ জন সিপিএমের প্রতিনিধি। বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছে যে, সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার ফলেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে রাজ্য রাজনীতিতে প্রশাসনিক ও আইনি দিক থেকে আজ এক বিশেষ গুরুত্বের দিন, কারণ বিধানসভায় আজ পেশ হতে চলেছে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। এই নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ২০৯টি ওয়ার্ড করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ১৯৮০’ সংশোধনের জন্য বিধানসভায় পেশ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ এনে হাওড়া পুরসভার বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৮টিতে উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিল পাস করানোর উদ্দেশ্যেই বিধানসভার এক বিশেষ অধিবেশন এক দিনের জন্য ডাকা হয়েছে। কীভাবে এই নতুন ওয়ার্ডগুলির পুনর্বিন্যাস সম্পূর্ণ করা হবে, সেই বিষয়ে বিলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যা, বসতবাড়ির ধরন, ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—এই সমস্ত বিষয়গুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণ করা হবে।