মধ্যরাতে বাইক বাহিনীর ভয়ঙ্কর তান্ডব! বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রক্তে ভাসল বসিরহাট, গুরুতর আহত ৪ কর্মী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এল শাসক ও বিরোধী দলগুলির অন্দরমহলের কোন্দল নয়, খোদ ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) তীব্র অভ্যন্তরীণ অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার সাকচুড়া বাগুন্ডি পঞ্চায়েতের কাথরি এলাকা। রাতের অন্ধকারে আকস্মিক ও সশস্ত্র এক বাইক বাহিনীর বর্বরোচিত তাণ্ডবে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন অন্তত চারজন স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থক। অভিযোগের তির সরাসরি দলেরই একাংশের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎই বেশ কয়েকটি বাইকে চড়ে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী অতর্কিতভাবে কাথরি এলাকায় প্রবেশ করে। সাধারণ মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দুষ্কৃতীরা লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় গুরুতর জখম হন দেবাশিস ঘোষ-সহ চারজন সক্রিয় কর্মী। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে আক্রান্ত দেবাশিস ঘোষ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “আমাদের গ্রামে সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশ ছিল। কিন্তু বিজেপির বুথ সভাপতি তমাল ঘোষ এবং মণ্ডল সভাপতি টুপাই ওরফে উজ্জ্বল ঘোষের প্রত্যক্ষ মদতেই এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তমাল নিজে ফোন করে বহিরাগত মদ্যপ দুষ্কৃতীদের এলাকায় ডেকে এনেছিল। তারা এসেই কোনো কথা না বলে আমাদের ওপর রড নিয়ে চড়াও হয়। প্রায় ১০-১২ জনের একটি দল এই হামলা চালায় এবং রডের আঘাতে আমার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অথচ তমাল এলাকায় এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমরা নাকি তৃণমূলের লোক, যা ডাহা মিথ্যা।” একই সুরে অন্য এক আহত কর্মীও নিশ্চিত করেছেন যে তাঁদের সঙ্গে বিরোধীদের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং দ্বন্দ্বের মূল কারণ দলের অন্দরের আধিপত্য বিস্তার।
যদিও এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত বিজেপি মণ্ডল সভাপতি। তাঁর দাবি, “এই হামলার ঘটনার সঙ্গে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই এবং বিষয়টি সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এলাকার দুটি পরিবারের মধ্যে বিবাদ হচ্ছে শুনে আমি কেবল পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং মীমাংসা করতে গিয়েছিলাম। আমি বা আমার কোনো অনুগামী কাউকে আক্রমণ করিনি। ব্যক্তিগত শত্রুতা ও পারিবারিক বিবাদকে জোর করে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, পুলিশ ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই আসল সত্য সামনে চলে আসবে।”
উল্লেখ্য, কাথরি এলাকায় এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন কিছু নয়। এর মাত্র দু’দিন আগেও উভয়পক্ষের মধ্যে চরম হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে ইতিপূর্বেই বসিরহাট থানায় উভয় পক্ষের তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই পুরনো শত্রুতার জের ধরেই মঙ্গলবার রাতের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই সমগ্র সাকচুড়া এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বসিরহাট থানার পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।