সরকারি জমি দখল থেকে চড়া সুদে ঋণ! ইংরেজবাজারের ত্রাস অমরদীপের গ্রেফতারির নেপথ্যে কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?

মালদা শহরের বুকে ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং স্থানীয়ভাবে ‘শাহজাহান’ হিসেবে পরিচিত অমরদীপ সাহাকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অমরদীপের একের পর এক জঘন্য কীর্তি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের কায়দাতেই তিনি কৃষ্ণেন্দুবাবুর এলাকায় একচ্ছত্র রাজত্ব চালাচ্ছিলেন। সরকারি জবরদখল করা জমিতে রেস্তরাঁ নির্মাণ, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক তোলা আদায় এবং বস্তি এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষ ও মহিলাদের সুদের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৩ বছরের অমরদীপ এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। দক্ষিণ বালুচর এলাকার এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে আগে শাসকদলের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস না পেলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইংরেজবাজার থানায় একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়। এর ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।
অভিযুক্ত অমরদীপের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর সুদীর্ঘ পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কৃষ্ণেন্দুবাবু দাবি করেছেন যে করোনা মহামারীর সময় অমরদীপ তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁরা সব সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা কি তাঁর অবৈধ সাম্রাজ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন? পাশাপাশি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কম নয়। গত ৫ আগস্ট এক নির্যাতিতা নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর ৬ আগস্ট মামলা রুজু হলেও পুলিশ দীর্ঘদিন অভিযুক্তের নাগাল পায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, অমরদীপ প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন, যা পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়েছিল। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সুপার অনুপম সিংয়ের নেতৃত্বে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে চেয়ে আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালত চত্বরে যাওয়ার সময় অমরদীপ দাবি করেন যে এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে, বিজেপির বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা অম্লান ভাদুড়ি এই গ্রেপ্তারির তীব্র সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন যে রাজ্যে এখন অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার দিন শেষ।