চাকরি দুর্নীতির অবসান! নতুন বাজেটে সরকারি নিয়োগে ইউপিএসসি মডেল, শিল্পে ইনসেনটিভ ফিরিয়ে আনল সরকার

বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থানের নতুন রূপরেখা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের বাজেট পেশের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে কর্মসংস্থান তৈরির তিনটি প্রধান স্তম্ভ বা ‘ত্রিধারা’ ব্যাখ্যা করেন।
কর্মসংস্থানের ‘ত্রিধারা’র খুঁটিনাটি:
১. সরকারি কর্মসংস্থান: এই অর্থবর্ষে ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০ হাজার পুলিশে, ৫০ হাজার শিক্ষা ক্ষেত্রে (শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী) এবং বাকি ৩০ হাজার অন্যান্য সরকারি দপ্তরে নিয়োগ করা হবে। সবচেয়ে বড় ঘোষণা হলো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। স্বচ্ছতার স্বার্থে নিয়োগ কমিটি পশ্চিমবঙ্গ ইউপিএসসি (WBPSC)-এর আদলে পরিচালিত হবে।
২. বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ: শিল্পক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ টানতে সরকার ল্যান্ড সিলিং নীতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী শিল্পপতিদের স্থানীয় পঞ্চায়েত বা লোকাল বডির জটিল অনুমতির প্রয়োজন হবে না। এছাড়া, শিল্পে উৎসাহিত করতে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ (ফুড প্রসেসিং) এবং এমএসএমই (MSME) ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
৩. ব্যবসা ও ভর্তুকি: শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করতে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা ও বিশ্বকর্মা প্রকল্পের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোতে রাজ্য সরকার বাড়তি ভর্তুকি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মূলধনের যোগান দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বস্ত করে বলেন, “এই তিনমুখী উদ্যোগে রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ে রাজ্যজুড়ে যে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য শুরু হবে, তার সুফল আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই সাধারণ মানুষ অনুভব করতে পারবেন।”
উল্লেখ্য, নতুন সরকারের এই বাজেটে দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও শিল্প মহল।