৪ মে, সোমবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের অগ্নিপরীক্ষা। ইভিএম বাক্স খুললেই পরিষ্কার হয়ে যাবে— আগামী পাঁচ বছর নবান্নের দখল কার হাতে থাকছে। সরকার কি পুরনো পথেই প্রত্যাবর্তন করবে, নাকি আসবে বড় কোনও পরিবর্তন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাঝেই এবার বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলার বাজার। গণনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বাজারে শুরু হয়ে গিয়েছে সবুজ বনাম গেরুয়া আবিরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
রঙের যুদ্ধে কে এগিয়ে? গণনার আগের দিন থেকেই কলকাতার বড়বাজার থেকে শুরু করে জেলাগুলির স্থানীয় বাজার— সর্বত্রই ছবিটা একই। শাসক ও বিরোধী, দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকরাই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। আর সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই কেউ সবুজ তো কেউ গেরুয়া আবিরের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আবিরের চাহিদা আকাশছোঁয়া। কেউ বলছেন সবুজের দাপট বেশি, আবার কারও মতে গেরুয়া আবির টক্কর দিচ্ছে সমানে সমানে।
ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো বিগত এক মাস ধরে রাজনৈতিক প্রচারে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণ সুফল এখন ঘরে তুলছেন ব্যবসায়ীরা। এক পাইকারি ব্যবসায়ীর কথায়, “ফল যাই হোক না কেন, উৎসব তো হবেই। কেউ হারবে, কেউ জিতবে। কিন্তু আবির দুই পক্ষই কিনছে। স্টকে রাখা সব আবিরই প্রায় শেষ।” অনেক ক্ষেত্রে লাল আবিরের চাহিদা থাকলেও, টক্করটা মূলত সবুজ ও গেরুয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে ইতিমধ্যেই বিজয় মিছিলের ছক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে। আবিরের পাশাপাশি মিষ্টির দোকানেও শুরু হয়েছে অগ্রিম বুকিং। উত্তর থেকে দক্ষিণ— বাংলার প্রতিটি কোণে এখন কেবল প্রতীক্ষা ইভিএম খোলার। গণনাকেন্দ্রের বাইরে যখন উল্লাস শুরু হবে, তখন কোন রঙের আবিরে ঢাকা পড়বে বাংলার আকাশ, সেটাই এখন সবথেকে বড় কোটি টাকার প্রশ্ন।
বাংলার মসনদে কার অভিষেক হবে, তা জানতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তবে জনমত যে পথেই যাক না কেন, বাংলার রঙের বাজার এখন সবুজ ও গেরুয়ার ‘মেগা-ফাইটে’ জমজমাট।





