বাংলার সব বিধানসভায় বিজেপির ‘সেবা কেন্দ্র’! নাগরিক পরিষেবায় নয়া মাস্টারপ্ল্যান শুভেন্দুর

রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রকে এবার সরাসরি নাগরিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নির্দেশ মেনে, দেশজুড়ে এই ‘সেবা কেন্দ্র’ তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই পথেই হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। মূলত সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ দ্রুত মেটানো এবং বিধায়কদের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে আজ বিধাননগরের বিধায়ক তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে একটি আধুনিক ‘সেবা কেন্দ্র’-এর উদ্বোধন করলেন বিরোধী দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
উদ্বোধন শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, প্রতিটি জায়গায় এই ধরনের সেবা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ নাগরিকের পরিষেবা আমাদের কাছে সবসময়ই অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে থাকে। মানুষ যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই তাদের সমস্যার সমাধান পেতে পারেন, তার জন্যই এই উদ্যোগ।”
বিধায়ক তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বিধাননগর নয়, খুব শীঘ্রই লেকটাউন সহ তাঁর বিধানসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও একাধিক সেবা কেন্দ্র খোলা হবে। আপাতত জায়গা খোঁজার কাজ চলছে। সেবা কেন্দ্রটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, এই কেন্দ্রটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। শারদ্বতবাবুর কথায়, “আমার বিধানসভা এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রোমোটারদের দ্বারা জমি বা ফ্ল্যাট দখল করে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। আমরা প্রতিটি অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং আইনানুগ পথে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও জানান, তিনি নিজেও নিয়মিত এই সেবা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনবেন। মানুষের দরজায় পৌঁছে পরিষেবা দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এদিন সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধনের পর রীতিমতো পুজো পাঠে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। দলের অন্দরের খবর, রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় এই মডেল কার্যকর হলে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে থাকা জনরোষকে প্রশাসনিক স্তরে মোকাবিলা করতে আরও সুবিধা পাবে। মূলত মানুষের ছোটখাটো সমস্যা থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া—সবটাই এই সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। তৃণমূল শাসিত রাজ্যে বিজেপির এই নজিরবিহীন জনসংযোগ কর্মসূচি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।