পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন কোটি টাকার প্রশ্ন— কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? ২০৬টি আসনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু করেছে বিজেপি। আর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভার ন্যস্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ওপর। বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা তথা রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা চূড়ান্ত করতে আজই কলকাতায় পা রাখছেন তিনি।
সূত্রের খবর, অমিত শাহের সঙ্গে আসছেন সহকারী পর্যবেক্ষক তথা ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। আজ রাতেই কলকাতার এক অভিজাত স্থানে নবনির্বাচিত ২০৬ জন বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন তাঁরা। ৪ঠা জুন ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। ৫ তারিখ ভোররাত পর্যন্ত গণনার কাজ চলার পর, দলের সমস্ত জয়ী প্রার্থীকে দ্রুত কলকাতায় আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন ২৫শে বৈশাখ?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য— তিনজনই স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী ৯ই মে অর্থাৎ ২৫শে বৈশাখ নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে। বাঙালির আবেগ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নেই ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যাত্রা শুরু করতে চায় গেরুয়া শিবির।
নেতা নির্বাচনে নয়া কৌশল:
সাধারণত পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচনে বিধায়কদের ভোট নেওয়া হলেও, এবার হয়তো সেই পথে হাঁটবে না বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিপূর্বেই সম্ভাব্য নামের তালিকা প্রস্তুত করে ফেলেছেন। পর্যবেক্ষক হিসেবে অমিত শাহ সেই নামই বিধায়কদের কাছে প্রস্তাব করবেন। কোনো বিতর্ক বা ভোটাভুটি এড়িয়ে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে ‘এক নাম’ ঘোষণা করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এই নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবে বিজেপি। আগামীকালই বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাই সময় নষ্ট না করে আজ রাতের বৈঠকেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে বাংলার নতুন নেতার নামে।





