বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার দলের অন্দরে কড়া অনুশাসন এবং রাজ্যে শান্তির বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বিজয় মানেই প্রতিহিংসা নয়।” জয়ের উল্লাসে মেতে উঠে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সে বিষয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কর্মীদের জন্য তাঁর দেওয়া নতুন স্লোগান— ‘ধৈর্য’ এবং ‘সহ্য’।
মিছিলে সাময়িক বিরতি ও সতর্কবার্তা:
রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের কড়াকড়ির কথা মাথায় রেখে শুভেন্দু নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী দু-তিন দিন কোথাও কোনো বিজয় মিছিল করা যাবে না। অতি উৎসাহী হয়ে কোনো কর্মী যেন তৃণমূলের কোনো দলীয় কার্যালয় বা সম্পত্তিতে আঘাত না করেন, সে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আগামী ৯ তারিখের পর পুলিশের যথাযথ অনুমতি নিয়েই তবেই বিজয় মিছিল করার পরামর্শ দিয়েছেন এই হেভিওয়েট নেতা।
বিএসএস এবং মামলা পুনর্মূল্যায়ন:
শান্তির আবেদন জানালেও, তৃণমূল জমানার শেষ লগ্নে হওয়া একাধিক মামলা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাজ্যে আসন্ন বিজেপি সরকার প্রতিটি মামলা নতুন করে খতিয়ে দেখবে। ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) অনুযায়ী প্রতিটি অভিযোগের বিচার হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে করা মামলাগুলি বাতিল করার পথও প্রশস্ত হবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবে না।
নন্দীগ্রামের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’:
রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে কৃষি—সবক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এলাকায় নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, আইটিআই কলেজ স্থাপন এবং কৃষকদের সুবিধার্থে বছরে দু’বার ধান চাষের উপযোগী সেচ পরিকাঠামো তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি এমন কাজ করবে যে মানুষ আগামী ১০০ বছর তাঁদেরই দুহাত ভরে আশীর্বাদ করবে।





