বাংলার দুর্গাপূজা এবার ৩৬৫ দিন! ‘দুর্গাঙ্গন’ গড়ার ঘোষণা ও বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ মমতার

আগামী বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণের কৌশল। একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গাঙ্গন’ তৈরির ঘোষণা একদিকে যেমন রাজ্যের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা, তেমনই অন্যদিকে বিজেপিকে তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক আক্রমণ। ভোট বৈতরণী পার হতে এবার মা দুর্গাকেই হাতিয়ার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মা দুর্গা আমাদের জাতীয় সম্পদ। জগন্নাথধাম যেমন করে দিয়েছি, আগামী দিন জগন্নাথধামের অনুকরণে একটা দুর্গাঙ্গন আমি বাংলায় করে দেব, সারাবছর যাতে বাংলার মানুষ আসতে পারে, পুজো করতে পারেন।” এই ঘোষণা একদিকে যেমন বাঙালির আবেগকে ছুঁতে চাইছে, তেমনই অন্যদিক থেকে বিজেপির ‘হিন্দুত্ব’ এজেন্ডাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
মোদীর দুর্গাপূজা মন্তব্যের জবাব: সম্প্রতি দুর্গাপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মা দুর্গা ও মা কালীর নাম নেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ছেড়ে দুর্গা-কালীর নামে স্লোগান ধরার জন্য কটাক্ষ করেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “একটা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার কী ফল পেয়েছিলেন মনে আছে তো? যে অত্যাচার মহারাষ্ট্রে মতুয়াদের থেকে শুরু করে রাজবংশীর উপর— অসমে মা কালীর মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আজ যদি বাংলায় মা কালীর মন্দির ভাঙা হত, তাহলে আপনারা কী করতেন? ডান্স বাংলা ডান্স করতেন? আগে আপনারা বলতেন মমতা দুর্গাপুজো, সরস্বতীপুজো করতে দেয় না। আর ইলেকশনের সময় হঠাৎ করে মা দুর্গার কথা মনে পড়ল?”
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ প্রমাণ করে, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ‘ধর্ম’কে যে ইস্যু করতে চাইছে, তার পাল্টা হিসেবে তৃণমূলও ধর্মীয় আবেগকেই কাজে লাগাতে প্রস্তুত। কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সারা বছর ধরে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যে পর্যটন-অর্থনীতি বিকাশ লাভ করেছে, সেই প্রেক্ষাপটে ‘দুর্গাঙ্গন’ তৈরির ঘোষণা রাজ্যের পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে বলেও ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। তবে, এর মূল উদ্দেশ্য যে আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা, সে বিষয়ে সংশয় নেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।