নতুন বছরের শুরুতেই উৎসবের আমেজে মিশল রাজনীতির ঝাঁজ। বাংলা নববর্ষের পুণ্যলগ্নে রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোসের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। পহেলা বৈশাখের সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর রাজভবনের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল যে বার্তা দিয়েছেন, তাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন তরজা।
ঠিক কী বলেছেন রাজ্যপাল? রাজভবনে আয়োজিত নববর্ষের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস বলেন, “বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধারের সংকল্প নিতে হবে।” আপাতদৃষ্টিতে এই মন্তব্যকে সাংস্কৃতিক মনে হলেও, রাজনীতির কারবারিরা এর মধ্যে গভীর ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন। অনেকের মতে, ‘গৌরব পুনরুদ্ধার’ শব্দটি ব্যবহার করে রাজ্যপাল পরোক্ষভাবে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দিকেই আঙুল তুলেছেন।
কালীঘাটে পুজো ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান: এদিন সকালে সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন রাজ্যপাল। সেখান থেকে ফিরে লোকভবনের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, সমগ্র বিশ্বের বাঙালিদের এক অনন্য উৎসব। অসম থেকে শুরু করে বিদেশের মাটিতেও বাঙালি সংস্কৃতির জয়গান শোনা যায়। তবে এই সাংস্কৃতিক আলোচনার মাঝেই তাঁর ‘গৌরব’ ফেরানোর ডাক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা: নির্বাচনের আবহে রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। শাসক দলের একাংশের মতে, উৎসবের দিনে রাজ্যপালের এহেন মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, বিরোধীরা রাজ্যপালের এই সুরকে সমর্থন জানিয়ে দাবি করছেন, বাংলার হৃত গৌরব ফেরানোর সময় সত্যিই এসেছে।





