বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারি! মালদায় নতুন ৩টি থানা ও ৩টি ফাঁড়ি গড়ার বড় প্রস্তাব

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল মালদা জেলা পুলিশ। সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে তিনটি নতুন থানা এবং তিনটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাকারবারীদের রুখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোথায় কোথায় নতুন থানা ও ফাঁড়ি? পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মূলত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে:
থানা হিসেবে প্রস্তাবিত: বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত কুম্ভীরা, কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ এবং হবিবপুর থানার বুলবুলচণ্ডী আউটপোস্টগুলিকে পূর্ণাঙ্গ থানা হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন ফাঁড়ি (Outpost): ইংরেজবাজারের গৌড়ের ‘লুকোচুরি’ ক্যাম্পটিকে ফাঁড়িতে উন্নীত করা হবে। এছাড়াও হবিবপুরের জাজৈল এবং বামনগোলা ব্লকের জগদলায় দুটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ? মালদা জেলার প্রায় ১৭৮ কিলোমিটার এলাকা ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানা। এর মধ্যে বেশ কিছু জায়গা অরক্ষিত। বর্তমান থানাগুলি সীমান্ত থেকে কিছুটা দূরে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পৌঁছাতে সমস্যা হয়।
পুলিশ সুপার অনুপম সিং-এর কথায়, “নতুন থানা ও ফাঁড়িগুলি তৈরি হলে পুলিশের সঙ্গে বিএসএফের সমন্বয় বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশি পরিষেবা পাবেন। অনুপ্রবেশকারী ও চোরাকারবারীদের মোকাবিলায় এটি বড় ভূমিকা নেবে।”
প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয়তা: প্রস্তাবিত থানা ও ক্যাম্পগুলি অনুমোদিত হলে পর্যাপ্ত কর্মীর ব্যবস্থাও করা হবে। ইতিমধ্যে ২০-২৫ জন পুলিশ অফিসার এবং ৫০ জনের বেশি কনস্টেবল নিয়োগের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা এবং জনপ্রতিনিধিরাও। হবিবপুরের বিধায়ক জয়েল মুর্মু জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়লে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বাড়বে এবং অসাধু চক্রের দাপট কমবে।
এখন রাজ্য সরকার এই প্রস্তাব অনুমোদন করলে মালদা জেলায় পুলিশের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।