বাংলাদেশে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, অনুদান চেয়ে বিতর্কে জড়ালেন উপদেষ্টা ইউনুস

ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক বিতর্কে উত্তাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।
সোমবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে গোটা দেশজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। ঘটনার সূত্রপাত সরকারের শীর্ষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের এক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি “প্রধান উপদেষ্টা ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল”-এ সাধারণ মানুষের কাছে অনুদান চেয়ে আবেদন জানান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য।
এই আহ্বান মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে। বহু মানুষ প্রশ্ন তোলেন, “রাষ্ট্র কি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, মানুষের প্রাণহানির পর ক্ষতিপূরণ দিতে নাগরিকদের কাছে চাঁদা চাইতে হচ্ছে?” অনেকেই এটিকে সরকারের দায়িত্ব এড়ানোর প্রয়াস বলেও মন্তব্য করেন।
বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ক্ষোভপ্রকাশ করে বলে, “এই ঘটনা সরকারের চরম ব্যর্থতার পরিচয়। জাতীয় দুর্যোগে রাষ্ট্র নিজে দায় নিচ্ছে না, উল্টে জনগণের কাঁধেই চাপানো হচ্ছে বোঝা।”
প্রতিক্রিয়া তীব্র হতে থাকায় কিছু সময় পরই ইউনূসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। যদিও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই পোস্টটি ইউনূসের তরফ থেকেই করা হয়েছিল এবং তা তাঁর প্রেস সেক্রেটারিও শেয়ার করেছিলেন।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থলের কাছে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে তাঁরা শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রশাসনের উচ্চপদস্থরা, কিন্তু সেখানে তাঁদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়।
আওয়ামী লীগের আরও অভিযোগ, সরকার মৃতদের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। অভিযোগ উঠেছে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়ার, এমনকি গুলির ব্যবহারেরও।
একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শোককে ঘিরে এমন বিতর্ক নতুন করে দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দায়িত্বজ্ঞান ও সহানুভূতির জায়গা থেকে শুরু হওয়া পোস্ট, শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু।