আদিবাসীদের ছাড় দিয়ে ইউসিসি বিলের খসড়া তৈরি! ২ জুলাই ক্যাবিনেটে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code – UCC) কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আরও এক কদম এগোল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, ইউসিসি প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। আগামী ২ জুলাই রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই বিলের খসড়া পেশ করা হবে।

কী থাকছে এই বিলে? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ড, আসাম ও গুজরাটের ইউসিসি মডেলকে ভিত্তি করে এই খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্যের আদিবাসী, উপজাতি এবং কুর্মি সম্প্রদায়ের মতো প্রাচীন জনগোষ্ঠীকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং দত্তকসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এক ছাতার নিচে আনা।

কমিটির গঠন ও সময়সীমা: বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে থাকছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং একজন অতিরিক্ত সচিব। কমিটিকে কাজ সম্পন্ন করার জন্য চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আগস্ট মাসে কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশগুলো পাওয়ার পর বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ইউসিসি বিল পেশ করা হবে।

রাজনৈতিক অবস্থান:

  • শাসক দল: বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইউসিসি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। দলের রাজ্য সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং দলের দীর্ঘদিনের দাবি। তাদের মতে, ‘এক দেশ, এক আইন’ দেশের জন্য প্রয়োজন।

  • বিরোধীদের হুঁশিয়ারি: অন্যদিকে, এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলো। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে শুরু করে অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে এই বিলের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অবশ্য জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন ও ‘ভূমি জিহাদ’-এর মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করে সরকারের এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকর করার এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্যজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। দেখার বিষয়, আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিলের খসড়া ঘিরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।