‘বাংলাদেশে ফেরত যেতে হবে?-SIR আতঙ্ক! ভয়ে আত্মঘাতী ৯৫ বছরের বৃদ্ধ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান আতঙ্কের আবহে ফের এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির পর এবার বীরভূমের ইলামবাজারে SIR-এর ‘ভয়ে’ আত্মহত্যা করলেন ৯৫ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়, দাবি পরিবারের।

মৃতের নাম ক্ষিতীশ মজুমদার, তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরে হলেও তিনি ইলামবাজারে মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। বুধবার রাতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রৌঢ়ের পরিবার এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার খবর জানার পর থেকেই তিনি মারাত্মক আতঙ্কে ভুগছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিরিশ বছর আগে ক্ষিতীশবাবু বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং নিয়মিত ভোটও দিতেন। কিন্তু সম্প্রতি SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তাঁর নাতনি হিরুবালা মজুমদার জানান, “২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার পর থেকেই তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। প্রায়শই আমাদের জিজ্ঞাসা করতেন, ‘যদি আমার নাম না থাকে, তাহলে কি আমাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে?’ আমরা তাঁকে বারবার আশ্বস্ত করেছিলাম, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সেই ভয় তাকে দিনরাত তাড়া করে বেড়াচ্ছিল।”

এই ঘটনার পাশাপাশি, SIR আতঙ্ক ঘিরে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কোচবিহারে। জানা যায়, দিনহাটার জিতপুর এলাকার বাসিন্দা খাইরুল শেখ (৭০) SIR আতঙ্কে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এর আগে SIR আতঙ্কে পানিহাটির বাসিন্দা প্রদীপ করের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রদীপ করের সুইসাইড নোটের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “প্রদীপের পরিবারের লোকই বলছেন, তাঁর চারটে আঙুল নেই, ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছেন। তিনি কী ভাবে এত সুন্দর করে লিখে ফেললেন? তৃণমূল নাটক করুক, কিন্তু একটা ভাল নাটক লিখুক। এত দুর্বল চিত্রনাট্য কেন?

এসআইআর (SIR) নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির এই বিতর্কের মধ্যেই বীরভূম ও কোচবিহারে পরপর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পুলিশ ইলামবাজারের বৃদ্ধের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখছে।