ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমা পলিসি বা সম্পত্তির জন্য কাউকে মনোনীত (Nominated) করলেই যে তিনি আপনার অবর্তমানে সম্পূর্ণ সম্পত্তির মালিক হয়ে যাবেন—এমনটা ভাবা ভুল। ভারতীয় আইন অনুসারে, একজন মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) এবং একজন আইনি উত্তরাধিকারীর (Legal Heir) ভূমিকা সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। এই পার্থক্যটি না বোঝার কারণে অনেকেই পারিবারিক বিরোধ এবং আইনি জটিলতায় পড়েন।
মনোনীত ব্যক্তি: যিনি ট্রাস্টি, মালিক নন
মনোনীত ব্যক্তি হলেন এমন একজন, যাকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমা পলিসি, শেয়ার বা সম্পত্তিতে নমিনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি আপনার মৃত্যুর পরে অস্থায়ীভাবে অর্থ বা সম্পত্তি পরিচালনা করবেন। অর্থাৎ, তিনি একজন তত্ত্বাবধায়ক বা ট্রাস্টি, প্রকৃত মালিক নন।
উদাহরণ: যদি কোনো পুরুষ তাঁর স্ত্রীকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নমিনি করেন এবং তারপর মারা যান, তাহলে ব্যাঙ্ক অর্থ স্ত্রীর নামে স্থানান্তর করবে ঠিকই, তবে সেই অর্থ কেবল স্ত্রীর হবে না। আইন অনুসারে, সন্তান এবং পিতামাতারও সেই সম্পত্তিতে অধিকার থাকবে।
আইনি উত্তরাধিকারী: যিনি মালিক
আইনি উত্তরাধিকারী হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি আইনত সম্পত্তিতে অংশ পান। এই অধিকার হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ অথবা সংশ্লিষ্ট ধর্মের উত্তরাধিকার আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়।
হিন্দু পরিবারগুলিতে, স্বামী, স্ত্রী, পিতামাতা এবং সন্তানদের সাধারণত আইনি উত্তরাধিকারী হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
উত্তরাধিকারীর সম্পত্তির উপর সম্পূর্ণ মালিকানার অধিকার রয়েছে, যার অর্থ তারা এটি বিক্রি, ভাগাভাগি বা হস্তান্তর করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট কী বলছে?
সুপ্রিম কোর্ট বার বার স্পষ্ট করে বলেছে যে, “একজন মনোনীত ব্যক্তি সম্পত্তির মালিক নন, কেবল আইনি উত্তরাধিকারীদের জন্য একজন ট্রাস্টি।” মনোনীত ব্যক্তির কেবল সম্পত্তি পরিচালনা করার বা তা সুরক্ষিত রাখার অধিকার রয়েছে, মালিকানার নয়। প্রকৃত মালিক হলেন উইল বা উত্তরাধিকার আইনে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা বিমা পলিসিতে নমিনির ভূমিকা:
একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পরে ব্যাঙ্ক বা বিমা কোম্পানি মনোনীত ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করে পরিবারের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণের জন্য। তবে, যদি আইনগত উত্তরাধিকারীরা পরে সম্পত্তির দাবি করেন, তাহলে সেই অর্থ বা সম্পত্তি আইনি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন করা হবে।
উইল কেন জরুরি?
অনেকেই একজন নমিনি নিয়োগ করেন, কিন্তু কোনো উইল করেন না। এখানেই বিরোধ তৈরি হয়। একটি রেজিস্টার্ড উইল থাকলে মৃত্যুর পরে মনোনীত ব্যক্তি এবং আইনি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যে কোনো ধরনের বিরোধ বা আইনি জটিলতা রোধ করা যায়। উইল-ই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে, আপনার সম্পত্তির মালিকানা কার হাতে যাবে।





